গুরুত্বপূর্ণ সারমর্ম
৯। আসিতেছে শুভ দিন .......................পা ফেলে আসে নব-উত্থান।
সারমর্ম: বর্বর আদিম সভ্যতা থেকে শুরু করে ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে আজকের আধুনিক সভ্যতার আবির্ভাব। যাদের প্রাণান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের এই আধুনিক সভ্যতা, তাদের কাছে আমরা ঋণী। আধুনিক সভ্যতাকে যথাযথভাবে রক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিশ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন করতে হবে।
১০। পুণ্যে-পাপে, দুঃখে-সুখে ........................... দাও ভালো-মন্দ সাথে।
সারমর্ম: বাঙালিরা বীরের জাতি। এ কথা যেমন সত্য, তেমনি এ জাতির ঘরমুখো স্বভাবও কম নয়। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো আত্মশক্তি অবশ্যই তাদের অর্জন করতে হবে। তাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে অংশ নিতে হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।
১১। হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয় ................. পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।
সারমর্ম: সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন রুখতে কবিতার কোমলতা নয়, গদ্যের কঠোরতা প্রয়োজন। শোষিত শ্রেণির ভাঁজ পড়া উদরে কবিতার সুর কান্না হয়ে ঝরে পড়ে। তাই কাব্য নয় গদ্যের রূঢ় শক্তিতে হৃদয় রাঙিয়ে শ্রমিক শ্রেণি বিপ্লবী হয়ে উঠুক- এটাই সবার প্রত্যাশা।
১২। স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই .................... স্বাধীনতা আখ্যাদানে বীর।
সারমর্ম: স্বাধীনতা স্পর্শমণি, কারণ এটি মানুষের দুঃখে শান্তি দেয়, মানুষের নির্জীব দেহে প্রাণ সঞ্চার করে। স্বাধীনতার কল্যাণে ভীরু মানুষও মনুষ্যত্বের ডাকে বুক ফুলিয়ে দণ্ডায়মান হয়।
১৩। দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা .................... তুমি তার কাছে।
সারমর্ম: অপরাধ প্রবণতা মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি নয়। কাজেই কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার আগে বিচারককে আন্তরিক ও সহমর্মী হওয়া উচিত। যে বিচারক দণ্ড দিতে গিয়ে অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং নিজেকে দণ্ডিত ব্যক্তির অতি কাছের মানুষ ভেবে ব্যথিত হন তার বিচারই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।
১৪। বিপদে মোরে রক্ষা করো, .......................... বাহিতে পারি এমন যেন হয়।
সারমর্ম: দুঃখ ব্যথা থেকে অন্য কারও সাহায্যে উদ্ধার পাওয়া গৌরবের নয়। বরং বিপদ মোকাবিলা করার শক্তি অর্জন করাই মানুষের প্রতিজ্ঞা হওয়া দরকার। আপন শক্তি-দক্ষতা ও ধৈর্য দিয়ে বিপদ মোকাবিলার মধ্যেই রয়েছে পূর্ণাঙ্গ সুখ।
১৫। হউক সে মহাজ্ঞানী, মহা ধনবান ................ সে পাষণ্ড বর্বর।
সারমর্ম: দেশ ও জাতির উপকারের মধ্যেই সব প্রতিভার সাফল্য নিহিত। অনেক ধন-সম্পদ এবং জ্ঞানের অধিকারী হয়েও যে দেশ-মাতৃকার সেবায় নিয়োজিত নয় তার ধন-সম্পদ, প্রতিভা-জ্ঞান সবকিছু বৃথা। সে সবার কাছে ঘৃণার পাত্র।
১৬। ছোট ছোট বালু কণা, ................... স্বর্গসুখ নিত্য দেয় আনি।
সারমর্ম: কোনো ক্ষুদ্র বস্তুই তুচ্ছ নয়। সহস্র ক্ষুদ্রের সমন্বয়েই বৃহতের সৃষ্টি। ত্রুটি কিংবা অপরাধ ক্ষুদ্র হলেও ক্রমে তা পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং ভয়ংকর প্রমাদ ঘটায়। অন্যদিকে করুণা ও স্নেহের ক্ষুদ্র বাণী এ মাটির পৃথিবীতে স্বর্গের সুখ এনে দিতে পারে।
আরো পড়ুন: ৬টি সারাংশ ও ৮টি সারমর্ম লিখন
১৭। সবারে বাসিব ভালো, করিব না .................. নব জীবন স্পন্দনে।
সারমর্ম: সব হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে যদি মানুষে মানুষে প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলা যায় তবে বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হবে এক নতুন সমাজ। ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিরাজ করবে শুধু শান্তি। থাকবে না কোনো রকম বিচ্ছেদ, হানাহানি এবং সংঘাত-সংঘর্ষ। থাকবে শুধু মহামিলনের সুর এবং নবজীবনের শান্তি।
১৮। পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি ................. আমরা পরের তরে।
সারমর্ম: পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মতো সুখ আর নেই। স্বার্থপরতা জীবনের চরম উদ্দেশ্য নয়, এতে আনন্দ পাওয়া যায় না। জগতের কল্যাণ সাধনের জন্য মানুষের জন্ম। তাই প্রত্যেকেরই অপরের কল্যাণ বা মঙ্গল কামনা করা উচিত।
১৯। পরের মুখে শেখা বুলি ...................... কোথাও পাবি না রে।
সারমর্ম: নিজস্বতাই মানুষের যথার্থ পরিচয় ও আত্মপ্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি। পর ভাষা ও ভূষণ অনুসরণ করে মানুষ ‘নকল’ মানুষ হয়ে উঠতে পারে। এতে মানুষের কোনো মর্যাদা নেই বরং নিজেরই অমর্যাদা ঘটে। আপন মূল্যবোধ ও সত্তাকে ধারণ করেই মানুষ সত্যিকার প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা লাভ করতে পারে। অন্যের অনুকরণ সর্বদাই নিন্দনীয়।
২০। বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর ................... সন্দেহ নাই মাত্র।
সারমর্ম: পৃথিবীর প্রকৃতি রূপে অপরূপ। প্রকৃতিতে আমরা অনেক কিছু দেখতে পাই। এসব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে আনন্দ সহকারে শিক্ষা লাভ করে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে পারি, তাই প্রকৃতিই সবচেয়ে বড় শিক্ষালয়। আর আমরা সবাই তার ছাত্র।
২১। নদী কভু পান নাহি করে ....................... ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।
সারমর্ম: পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই রয়েছে মানুষের চরম এবং পরম সার্থকতা। প্রকৃতির সবকিছুই পরের জন্য উৎসর্গকৃত। মহৎ ব্যক্তিরাও বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির মতো পরের কল্যাণের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।
২২। সব সাধকের বড় সাধক আমার .............. চূর্ণ হউক ভণ্ড নেতার মান।
সারমর্ম: চাষিরা আমাদের সবার শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। রুক্ষ মাটি কর্ষণ করে ফসল ফলান তারা। আর সে ফসল ভক্ষণ করে আমরা জীবন ধারণ করি। তারা আমাদের আহার জোগান। তাই তারা সব মুনি, ঋষি, রাজা, নেতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। আমরা তাদের অবদানের জন্য শ্রদ্ধায় মাথা নত করি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর