‘ব্যবসা’ শব্দটি বলতে সহজ শোনালেও এর পরিচালনা ও কৌশল নির্ধারণ মোটেই সহজ নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু কার্যকর কৌশল জানা থাকলে ব্যবসা পরিচালনা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে ছোট হোক বা বড়—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি থাকা জরুরি, বিশেষ করে ফেসবুকে।
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ, বিজ্ঞাপন টুলস ও টার্গেটেড মার্কেটিং সুবিধা ব্যবহার করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাও দ্রুত পরিচিতি পেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ পণ্য বা সেবার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সহায়তা করে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একটি সঠিকভাবে পরিচালিত ফেসবুক ব্যবসায়িক পেজ গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। বিপরীতে, অনলাইন উপস্থিতি না থাকলে অনেক সময় গ্রাহকরা ব্যবসাটিকে অবিশ্বস্ত মনে করতে পারেন। তাই পরিকল্পিতভাবে মাত্র ছয়টি সহজ ধাপ অনুসরণ করেই ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার কার্যকর প্রচার ও বিস্তার নিশ্চিত করা সম্ভব।
ব্যবসায়িক ফেসবুক পেজ তৈরি করুন
ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসার একটি দৃঢ় এবং শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা যায়। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্যবসার জন্য আলাদা একটি ব্যবসায়িক পেজ তৈরি করতে হবে।
একটি পেজ সাধারণত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মতোই কিন্তু এটি সাধারণত কোনো ব্র্যান্ড অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেকোনো ব্যবহারকারীকে কোনো পেজের পোস্ট দেখতে হলে অবশ্যই তাকে ওই পেজে লাইক দিতে হবে।
নিয়মিত পোস্ট
ফেসবুককে আপনার ব্যবসার প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে চাইলে নিয়মিত পোস্ট করা জরুরি। ফেসবুকে কীভাবে পোস্ট করতে হয় তা অবশ্য বর্তমানে কম-বেশি সবারই জানা। ফেসবুকে বেশি বেশি পোস্ট করা উচিত। তা না হলে দিনে সর্বনিম্ন একবার হলেও পোস্ট করুন। প্রতিদিন পোস্ট করা যেমন জরুরি তেমনি যে বিষয়ে পোস্ট করবেন তার মান ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
পেজের প্রচার
আপনি আপনার পেজে ভালো মানের কিছুই শেয়ার করছেন এবং আপনি ভাবছেন তা আপনার পেজের গ্রাহকদের মনে এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে। কিন্তু দিনশেষে দেখা গেল সেই পোস্টটিতে তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। এমতাবস্থায় আপনি পেজ তৈরি করার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে আমন্ত্রণ পাঠাতে পারেন। এতে কিছুটা হলেও আপনার পেজের সাড়া বাড়বে।
পোস্ট এনগেজমেন্ট বাড়ান
ফেসবুকের নতুন অ্যালগরিদম ওইসব পোস্টের অনুকূল হয়ে থাকে যেসব পোস্ট গ্রাহকের সাড়া ভালো থাকে। ফেসবুকে কোনো কিছু পোস্ট করার আগে আপনি নিজেকে অবশ্যই একবার একজন সাধারণ ক্রেতা হিসেবে বিবেচনা করে দেখুন এবং ভাবুন আপনি যা পোস্ট করছেন তা সত্যিই বিক্রি বাড়ানোর মতো সক্ষমতা রাখে কি না। আপনাকে সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে যে, ফেসবুক হলো একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সুতরাং আপনাকে অবশ্যই সামাজিকতার মধ্য দিয়েই আপনার ব্যবসার প্রচার চালাতে হবে।
গ্রাহকদের এনগেজমেন্ট ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার হলো পেজে মানসম্পন্ন লেখা পোস্ট করা এবং নিয়মিত পোস্ট করা। ভালো রেজাল্টের জন্য পাঠকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করতে পারেন।
ফলোয়ারদের সম্পৃক্ত করুন
বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনরা যেসব জিনিসের ওপর আসক্ত মানুষ সাধারণত সেসব জিনিস ট্রাই করতে পছন্দ করে থাকে। তা ছাড়া বর্তমানে যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসা বা সেবার প্রচারের জন্য প্রধান একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি চাইলেই যেকোনো পণ্য বা সেবা যে কাউকেই ট্যাগ করতে পারেন যারা আপনার ব্যবসা সম্পর্কে কথা বলতে চায়।
সম্ভাব্য ক্রেতাদের আপনার ব্যবসার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য ছোট ছোট অফার দিতে পারেন। তা ছাড়া কোনো স্পেশাল ইভেন্ট তৈরি করে সেখানে আপনার ফলোয়ারদের ইনভাইট করে আপনার ব্যবসার প্রোমোশন চালাতে পারেন।
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিন
আপনি যদি ফ্রি এবং অর্গানিক উপায়ে গ্রাহকদের আপনার পেজে সম্পৃক্ত করতে সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে ফেসবুক বিজ্ঞাপন হবে আপনার জন্য বেস্ট অপশন। প্রোমোট করা ফেসবুক পোস্ট সাধারণ পোস্টের মতোই কিন্তু এখানে একদম সুনির্দিষ্ট গ্রাহকের এনগেজমেন্ট নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমানে ফেসবুক এতই এগিয়ে গেছে যে, আপনি আপনার গ্রাহককে টার্গেট করে তাদের পেশা, লোকেশন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আপনার অডিয়েন্স কোনো ধরনের আগ্রহ নিয়ে আপনার পেজ অথবা ওয়েবসাইট অনুসন্ধান করছে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনী অপশনগুলো সেটা সহজেই বুঝতে পারে।
তারেক/