গিটার জাদুকর এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা রক তারকা আইয়ুব বাচ্চুর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যান্ডসংগীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও তার প্রতি ভক্তদের আবেদন একটু কমেনি। দিন যতই যাচ্ছে আইয়ুব বাচ্চু যেন গানে গানে আরও বেশি জীবন্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর গান পৌঁছে গেছে সারা পৃথিবীর অসংখ্য গানপ্রেমীদের হৃদয়ে।
ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে ভক্ত-অনুরাগীরা আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। আজ আইয়ুব বাচ্চুর জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে এটি। এর আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম মিউজিশিয়ানস ক্লাব ঢাকা, আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন এবং বন্ধুমহল। এতে দেশের সংগীতাঙ্গনের তারকারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকেও থাকছে কিছু আয়োজন। আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আইয়ুব চন্দনা বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে কোরআন খতম আর সাধ্য অনুযায়ী এতিমদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করছি। সবাই ওনার জন্য দোয়া করবেন। সৃষ্টিকর্তা যেন ওনাকে জান্নাত দান করেন।’
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ছোটবেলা থেকেই গিটারের সঙ্গে প্রেম তার। প্রথমে বাবার অমত থাকলেও ছেলের প্রচণ্ড আগ্রহ দেখে ১১তম জন্মদিনে একটি গিটার কিনে দেন। সেই থেকে শুরু।
কলেজজীবনে ওঠার পরই বন্ধুদের নিয়ে একটি ব্যান্ডদল গঠন করেন জনপ্রিয় এই রকস্টার। এর নাম ছিল ‘গোল্ডেন বয়েজ’। পরে নাম বদল করে ‘আগলি বয়েজ’ রাখা হয়। এই ব্যান্ডের গায়ক ছিলেন নন্দিত সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। আর গিটারিস্ট ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৭ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে যোগ দেন এবি। সেখানে ছিলেন দেশের আরেক জনপ্রিয় রকস্টার জেমসও। তবে আইয়ুব বাচ্চুর উত্থান হয় মূলত ১৯৮০ সালে ‘সোলস’ ব্যান্ডে যোগদানের পর। এই ব্যান্ডে ১৯ বছর পারফর্ম করেছেন আইয়ুব বাচ্চু।
এরপর নিজে ১৯৯০ সালে গড়ে তোলেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’, যা পরে ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ বা ‘এলআরবি’ নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ব্যান্ডের হয়ে আইয়ুব বাচ্চু উপহার দিয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় অ্যালবাম। এগুলো হলো- এলআরবি (১৯৯২), সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারি মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬), আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮) এবং যুদ্ধ (২০১২)।
ব্যান্ডের বাইরেও একক শিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চু প্রকাশ করেছেন বেশকিছু অ্যালবাম। এর মধ্যে রয়েছে- রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কী! (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩), পথের গান (২০০৪), ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬), জীবন (২০০৬), সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইনস্ট্রুমেন্টাল, ২০০৭), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯), জীবনের গল্প (২০১৫)। এ ছাড়াও অসংখ্য মিক্সড অ্যালবামে গান করেছেন এই সংগীততারকা।
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া কালজয়ী কিছু গান হলো- ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘মেয়ে’, ‘কেউ সুখী নয়’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘রুপালি গিটার’, ‘উড়াল দেব আকাশে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘বেলা শেষে ফিরে এসে’, ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’, ‘আম্মাজান’, ‘ফেরারি মন’ ইত্যাদি।
হাসান


.jpg)