রাজধানীর ধানমন্ডির সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে চলছে চিত্রশিল্পী নাজমুন নাহার রহমানের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। পাঁচ দিনব্যাপী এ চিত্র প্রদর্শনী ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি খবরের কাগজ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন।
কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
সাম্প্রতিক সময়ে চিত্রকলায় বর্তমান বাংলাদেশ আপনার আঁকা ছবিতে কীভাবে উঠে এসেছে?
সাম্প্রতিক সময়ে চিত্রকলায় আমার আঁকা ছবিতে বর্তমান বাংলাদেশ উঠে এসেছে। চিত্রকলায় আমার পারিপার্শ্বিক বিষয়বস্তু, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। এবারের প্রদর্শনীর বিষয় হিসেবে রেখেছি মাছ, ফুল, পাখি, নারী এবং প্রকৃতিকেই বেছে নিয়েছি। এই বিষয়গুলোকে সমসাময়িক বলতে পারেন। আবার আদিকাল থেকে এসেছে সেটাও বলতে পারেন। আমাদের চারপাশে সব সময় প্রবহমান বিয়ষগুলোকেই চিত্রকলায় প্রাধান্য দিয়েছি।
শিল্পী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কি কোনো বাড়তি প্রেরণার প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করেন?
প্রেরণা ব্যাপারটা অনেকের ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয়। এটা শুধু শিল্পী হওয়ার ক্ষেত্রে না শুধু আমাদের সব মানুষই জীবনে কিছু হয়ে ওঠার জন্য আপনার প্রেরণার প্রয়োজন হয়, আকাঙ্ক্ষা প্রয়োজন হয়। মানুষের আসলে নিজের আগে উদ্যোগ থাকতে হবে, নিজের ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। তাহলে দেখবেন আশপাশের সবাই আপনাকে সাহায্য করবে, সেটাই আপনার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ছোটবেলা থেকে আমি বিভিন্ন শিল্পীর জীবনী পড়েছি। সেখান থেকেও কিছু প্রেরণা পেয়েছি, আর মনে হতো সব সময় শিল্পীরা এতো সুন্দর করে ছবি আঁকে, আঁকা ছবি দেখেছি, আমাদের ছোটবেলায় তো গ্যালারি ছিল না, আর সেই কারণে বইয়ে, পত্রিকায়, ম্যাগাজিনের ছবি দেখতে খুব ভালো লাগত। আর সেখান থেকেই আমার শিল্পী হয়ে ওঠার মূল প্রেরণা। পরবর্তী সময়ে জীবনের ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
জ্যামিতিক গড়নের নকশাকলার প্রতি আপনার আগ্রহ লক্ষ করা যায়। এর পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?
আমার চিত্রকলায় জ্যামিতিক গড়নের নকশা শুধু নয়, যেকোনো মোটিফই আমার চিত্রকলায় দেখাচ্ছে। শুধু যে জ্যামিতিক ফ্রম আছে তা নয় কিন্তু, সব ধরনের ফ্রমই ব্যবহার করেছি। এ ব্যাপারটা আসলে আমার ভেতরে কাজ করেছে। চিত্রকলা অনেক আদি যুগ থেকেই চলে এসেছে। আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে আছে। ১৯ শতকের গোড়া থেকে আমাদের চিত্রকলায় মর্ডান বা আধুনিক শিল্পের প্রবর্তন ঘটে। তার আগে ছিল কিউবিজম ও ইমপ্রেশনিজমের যুগ। সেই সময়ে বেশির ভাগ শিল্পী যেমন মনট, পাবলো পিকাসো ওনারা জ্যামিতিক গড়নে বা মোটিফ নকশা দিয়ে আধুনিক স্টাইলে ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন। তাদের কাছ থেকেই কিছুটা অনুপ্রেরণা পেয়েছি। চিত্রকলা একটি শিল্প। এই শিল্প সৃষ্টির সঙ্গে শিল্পীর
জীবনধারণের সম্পর্ক রয়েছে সেই জায়গাটা দেশীয় প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে কি?
মানুষের জীবনধারণের জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন। সব কিছুর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দরকার। একজন শিল্পীর জীবনেও চলতে গেলে আর্থিক প্রয়োজন আছে। আমাদের দেশে একজন শিল্পী শিল্পের ওপর বেঁচে থাকতে পারবে সেভাবে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়নি। তবে ধীরে ধীরে সেই পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আগে তো অল্প কয়েকটি ইনস্টিটিউশন ছিল। এখন চিত্রকলার বিষয়ের পড়াশোনা করার বেশ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলার ফ্যাকাল্টি তৈরি হয়েছে। এখান থেকে অনেকে বের হয়ে শিল্পকলাতে চর্চা করছেন। আমাদের অর্থনীতিতে শিল্পকলার অবদান তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের শিল্পের প্রসারও ঘটেছে। এখন মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ তৈরি হয়েছে। যেকোনো শিল্পকলা যুগের পর যুগ ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাজ করে।
/ কলি