পেশাগত কারণে নানা রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় শোবিজ অঙ্গনের নারীদের। নারীর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা ও সেসব থেকে উত্তরণে করণীয় বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বেশ কয়েকজন শিল্পী। তাদের মতামত নিয়ে সাজানো হয়েছে নারী দিবসের আজকের রঙ
নারীর স্বাধীনতা নারীকেই রক্ষা করতে হবে
ফাহমিদা নবী, কণ্ঠশিল্পী
১৯০৮ সালের শ্রম আন্দোলন থেকে উদ্ভূত হয়েছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ধারণাটি। বাংলাদেশে বেগম রোকেয়া আমাদের নারীদের যখন পথ দেখালেন, তখন থেকে আজ অবধি অবস্থানকে শক্ত এবং শক্তিশালী করার দুর্নিবার পথ চলা কিন্তু থেমে নেই। তবুও আমরা আজও পিছিয়ে কেন? যে জাতি নারীদের সম্মান করতে পারে না, সে জাতির উন্নতি অসম্ভব। নারীরাই সমাজের প্রকৃত স্থপতি। নারীকে চিন্তাচেতনার শর্তে জীবনযাপন করার জন্য যথেষ্ট সাহসী হতে হবে। নারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। কারণ নিজেকে পরিবর্তন করতে হলে নিজেদেরই তৎপর হতে হবে।
আমার ব্যথা যদি আমি ঠিক না করি তাহলে কেউ সাহায্য করবে না। পুরুষ এবং নারী যে সমঅধিকার আছে, সেটা পুরুষদের বিশ্বাস করতে হবে। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রটি সমঅধিকার হতেই তৈরি হয়। বাবার সম্পত্তি ছেলে-মেয়ে সবাই সমপরিমাণে পাবে। নারী কেন সারাজীবন অত্যাচারিত হবে। তবে নারীর অধিকার মানে এই না যে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে হবে। জীবনযাপনে সচেতন হতে হবে। নারীর স্বাধীনতা নারীকেই রক্ষা করতে হবে।
আমাদের দেশে আত্মসচেতনতার অভাব রয়েছে বলেই নারীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে সব সময় এবং বারংবার। নারী সমাজকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। এ শক্তি কাজে লাগিয়ে সমাজসেবার সুযোগ করে দিতে হবে। নারীদের মেধা ও শ্রমশক্তিকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করতে হবে। আর তা করতে হলে সমাজ সম্পর্কে তার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে নারীদের কাজের পরিবেশ আরও সুন্দর হওয়া উচিত। কারণ একজন নারী যোগ্যতা দিয়ে এগিয়ে যায় তাহলে অনেকেই তাকে মেনে নিতে চান না। এই মানসিকতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের।
নারীদের বলতে চাই, জীবনে সংগ্রাম থাকবেই। কিন্তু পিছিয়ে পড়া যাবে না। এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কথা বলতে, না বলতে, সাহসে পথ চলতে শিখতে হবে। আমাদের দেশে নারীদের অংশগ্রহণ এখন সর্বত্র। শুধু সাহস আর মানবিকতায় পথটাকে আরেকটু চিনে চলতে হবে।
শুধু নারী নয়, প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান প্রাপ্য
তানিয়া আহমেদ, অভিনেত্রী ও নির্মাতা
নারীরা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মেধা প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক। তবে নারীরাই নারীদের প্রতিবন্ধতা তৈরি করে। একজন মেয়ে যখন একজন ছেলেকে ডিবেট করতে যান, তখন মেয়েকে অনেক বেশি ওয়েল প্রোটেক্টেড থাকতে হয় ছেলের তুলনায়। যখন আমি কোথাও যেতে চাই তখন আমার মনে হয় আমি বোধহয় এনাফ না, আমার সঙ্গে কাউকে থাকতে হবে। মানে আমার প্রোটেক্টর লাগবে একজন।
এই প্রতিবন্ধকতা যদি আমরা ছোটবেলা থেকে নারীদের ভেতর থেকে দূর করতে পারি, তা হলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই দিবসটা কোনো প্রমিজ না। দিবসটাকে আমি খারাপভাবে দেখি না। নারীদের সম্মান যেকোনোভাবে যেকোনো দিন বা যেকোনো পর্যায়েই হোক, সেটা আমার কাছে পজিটিভ। শুধু নারী নয়, প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান প্রাপ্য।
বারবার নারীকে নিজেদের প্রমাণ করতে হয়
আশনা হাবিব ভাবনা, অভিনেত্রী
আমাদের প্রান্তিক নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তাদের উপলব্ধি করতে হবে যে তারাও মানুষ, তাদেরও অধিকার আছে। মেয়েরা যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে না, তখন তাকে নানাভাবে হেয় করার চেষ্টা দেখা যায়। তারা যদি পড়াশোনা করে প্রকৃত শিক্ষিত হতে পারে, সে তার বঞ্চনাগুলো উপলব্ধি করতে পারে। তাই নারীদের শিক্ষিত হতে হবে, পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে হবে। তাহলেই নারী নিজের কণ্ঠস্বর কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে।
আমাদের সমাজে নারীদের যেসব আচরণ সহ্য করতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে সেসবে অভ্যস্ত হয়ে যায় নারীরা। পিতৃতান্ত্রিক এই সমাজে বারবার নারীকে নিজেদের প্রমাণ করতে হয়। আমাকেও বিভিন্ন সময় কথা শুনতে হয়, আমার বইগুলো কে লিখে দিচ্ছে, কে আমার ছবিগুলো এঁকে দিচ্ছে! অনেক সময় এমনও শোনা যায়, সুন্দরী মেয়েদের পড়াশোনার ফলাফল ভালো হয় না।
/শাকিল


.jpg)