নাট্য সংগঠন আবহমান এবং স্বপ্নদল যৌথভাবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে আজ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজন করছে তিন দিনব্যাপী ‘আবহমান-স্বপ্নদল নাট্য-আয়োজন ২০২৫’। এতে প্রথম দুদিন সন্ধ্যা ৭টায় আবহমানের পরিবেশনায় যথাক্রমে ‘সুন্দরী’ ও ‘চন্ডীদাস’ প্রযোজনার উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। ‘চন্ডীদাস’ রচনা করেছেন শান্তা মারিয়া আর ‘সুন্দরী’ রচনাসহ এ দুটি প্রযোজনার নির্দেশনা দিয়েছেন শাহিন রিজভি।
আয়োজনের সমাপনী দিন সন্ধ্যা ৭টায় থাকছে স্বপ্নদল প্রযোজনা ‘ভারত রঙ্গ মহোৎসব’সহ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত জাহিদ রিপনের নির্দেশনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র ১২০তম মঞ্চায়ন।
প্রসঙ্গত, মানুষের সঙ্গে বৃক্ষ তথা প্রকৃতির যে নিবিড় সম্পর্ক, তাকে ধারণ করেই ‘সুন্দরী’ নাট্যপ্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে। প্রকৃতি ও মানব প্রকৃতই এক অপরের পরিপূরক, তাই প্রকৃতির বিনাশ মানেই হলো মানব-অস্তিত্ব ধ্বংসের আয়োজন! আর প্রায় ৫০০ বছর আগে মধ্যযুগের কবি চন্ডীদাসের মানসগঠন এবং তৎকালীন সমাজব্যবস্থা উপস্থাপিত হয়েছে ‘চন্ডীদাস’ নাট্যপ্রযোজনায়।
পাশাপাশি মধ্যযুগের সঙ্গে এ আধুনিক সময়ের যোগসূত্রের একটি উদাহরণও হয়ে উঠেছে প্রযোজনাটি। অন্যদিকে, মহাভারত অবলম্বনে রচিত ‘চিত্রাঙ্গদা’র নাট্যকাহিনিতে মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা মহাবীর অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন।
এবারে অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকেন। অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনির আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়।
/এমএস


.jpg)