হলিউড নির্মাতা ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা ‘গডফাদার’ সিনেমা নির্মাণ করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছেন। পরে ‘দ্য কনভারসেশন’ ও ‘অ্যাপোক্যালিপস নাও’ নির্মাণ করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান। ব্যবসায়িকভাবে সিনেমাগুলো ব্যাপক সাফল্য পায়।
পাঁচবার অস্কার জয়ী ফ্রান্সিস নিজ খরচে সর্বশেষ নির্মাণ করেন সিনেমা ‘মেগালোপলিস’। সিনেমাটি নির্মাণে খরচ হয় ১২০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে সিনেমাটি মুক্তি পায়। তবে ছবিটি সুপার ফ্লপ হওয়ায় ফ্রান্সিস পথে বসে যান। সিনেমাটির খরচ ওঠা দূরে থাক, ফেরত পান মাত্র ১৪.৪ মিলিয়ন ডলার।
তার ৬০ বছরের ক্যারিয়ারে এমন খারাপ সময় আর আসেনি। এই বিপুল ক্ষতি পোষাতে নিজের কাছে অবশিষ্ট যা কিছু আছে, তাই এখন বিক্রি করছেন। গত অক্টোবরের শেষের দিকে নিজের দামি ঘড়িগুলো নিলামে তুলেছেন। ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল বিলাসবহুল অনেক ঘড়ি, যার মধ্যে একটির দামই ১ মিলিয়ন ডলারের ওপরে। নিজের সংগ্রহ থেকে সাতটি ঘড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কপোলা।
আগামী ৬ ও ৭ ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের ফিলিপস অকশন হাউসে বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হবে ঘড়িগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি ঘড়িটি তিনি আগলে রেখেছিলেন প্রায় আট বছর। নিজেই ডিজাইন করেছিলেন ঘড়িটি। এত শখের ঘড়ি ছাড়াও ফ্রান্সিসকে বিক্রি করতে হয়েছে তার কেনা একটি দ্বীপ।
গত ৮ নভেম্বর মধ্য আমেরিকার বেলিজে একটি দ্বীপ কিনেছিলেন তিনি। কোরাল কে নামে দ্বীপটি আয়তনে ৮ মাইল লম্বা। মাঝে মাঝে অবকাশ যাপনে সেখানে যেতেন নির্মাতা। নিজের খুবই পছন্দের দ্বীপটি ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন কপোলা।
সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি ফ্রান্সিস রিসোর্ট, লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে বিপুল সম্পদের অধিকারী হন। তবে ‘মেগালোপলিস’ নির্মাণ করতে গিয়ে নিজের সব সঞ্চয় হারিয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার হাতে এখন কোনো টাকা নেই। কারণ, ‘মেগালোপলিস’ বানাতে গিয়ে নিজের সব অর্থ বিনিয়োগ করেছিলাম। আরও কিছু ঋণ নিয়েছিলাম। সবই চলে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ১৫-২০ বছর লাগবে। কিন্তু সেই সময়টা আমার হাতে নেই।
সায়েন্স ফিকশন গল্পের সিনেমা ‘মেগালোপলিস’ তৈরি হয়েছে রোমান সাম্রাজ্যের পটভূমিতে। এতে অভিনয় করেছেন অ্যাডাম ড্রাইভার, জন ভয়েট, জিয়ানকার্লো এসপোসিতো, নাথালি ইমানুয়েল, ডাস্টিন হফম্যান প্রমুখ।
মুক্তির পর কিছু সমালোচকের প্রশংসা পেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। নিজের এই পরিস্থিতিকে তুলনা করছেন ফরাসি নির্মাতা জ্যাজ টাটির সঙ্গে। ১৯৬৭ সালে ‘প্লেটাইম’ নির্মাণ করে জ্যাজকেও দেউলিয়া হতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সর্বকালের অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল ‘প্লেটাইম’।
ফ্রান্সিস কপোলাও আশা করছেন, ‘মেগালোপলিস’ও হয়তো ভবিষ্যতে দর্শকদের প্রশংসা পাবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
/এমএস


.jpg)