ওপার বাংলার রাজনীতির ভরকেন্দ্র এখন ‘বাংলার মসনদ’। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন। আর এই গণতান্ত্রিক উৎসবে সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে শামিল হলেন টলিউডের রুপালি পর্দার তারকারা। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ব্যস্ততা ভুলে এদিন তারকাদের গন্তব্য ছিল ভোটকেন্দ্র।
সকাল সকাল নিউ আলিপুরের সারদা আশ্রম বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট দেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মোহনা মদনানি। বুথ থেকে বেরিয়ে জিতের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল ফলাফল নিয়ে উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বাবা-মাকে নিয়ে ভোট দেন দেব। তৃণমূলের হয়ে টানা প্রচার চালানো এই নায়ক বলেন, “ভোট দেওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, একে সানন্দে উদযাপন করা উচিত।”
টলিউডের ‘মহারাজ’সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগণায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সৌরভ। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ভোট দেন বালিগঞ্জের বুথে। বিশেষ বিষয় ছিল তার ছেলে মিশুকের প্রথম ভোটদান। ছেলের এই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন বাবা-ছেলে দুজনেই।
বিজেপির হয়ে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালানো মিঠুন চক্রবর্তী সকালে বেলগাছিয়ায় ভোট দেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। এদিকে রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ভোট দিতে এসে তৃণমূলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘মহিষাসুর’ এর সঙ্গে তুলনা করে মা দুর্গার জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনীতির আঙিনায় আলোচিত নুসরত জাহান ও যশ দাশগুপ্তও সাদা পোশাকে ভোট দিতে আসেন। ইডির তলবের পর এই প্রথম জনসমক্ষে দেখা গেল নুসরতকে। কসবা রোডের বুথে মা-সহ ভোট দেন মিমি চক্রবর্তী। অন্যদিকে, বালিগঞ্জে মুনমুন সেন ও কন্যা রাইমা সেনের উপস্থিতি ছিল বেশ নজরকাড়া।
বর্ধমান দক্ষিণে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভোট দেন অভিনেতা অঙ্কুশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় খুশি প্রকাশ করেন তিনি। টালিগঞ্জে সপরিবারে ভোট দেন রঞ্জিত মল্লিক ও কোয়েল মল্লিক। তবে অনেক সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।
এ ছাড়াও এদিন ভোট উৎসবে শামিল হন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম, সোহিনী সরকার, মিমি চক্রবর্তী ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির তারকারা। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীও হাসিমুখে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। সব মিলিয়ে রাজনীতির চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিনে টলিউড তারকারা নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব পালনে ছিলেন সরব ও সচেতন। এখন সবার নজর আগামী ৪ মের ফলাফলের দিকে।