ষষ্ঠদশ পর্ব
এদিকে ঢাকা চট্টগ্রাম রোডের টোল প্লাজার অগ্নিকাণ্ড ঢাকার সিচুয়েশন রুমেও অগ্নি উদ্গিরণ করছে।
বিদেশি গোয়েন্দাপ্রবর ইতোমধ্যে নক্ষত্র রেখা অতিক্রম করায় কাজ শুরু করেছেন। তার প্রথম বক্তব্য,
আগেই বলেছি, নকশাল বাড়ি ট্রেন্ড অনুযায়ী ধোলাইপাড় থেকে টার্গেট শনিরআখড়ায় আসার পরপরই টোল প্লাজায় আগুন দেওয়া হয়।
-ইতোমধ্যে সাদা শার্ট আর নীল জিন্স পরা দশজনকে ঘটনাস্থল থেকে অ্যাপ্রিহেন্ড করা হয়েছে।
-গুড।
-তবে।
-তবে কী?
-যে দম্পতিকে আমাদের সোর্স ধোলাইপাড়ে নিখোঁজ হওয়া ছেলেটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, টোলপ্লাজা আক্রমণের ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
-আমাদের টার্গেট এখন একটি জিন্স শার্ট পরা ছেলে নয় বরং গ্রামের এক দম্পতি?
-তাই তো মনে হয়।
-কী বিচিত্র এই দেশ। আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট এজন্যই রাজা পুরুকে বলেছিলেন, হাউ স্ট্রেঞ্জ ইউর কান্ট্রি ইজ। আমিও বলি, একজন জোয়ান ছেলে ভোজবাজির মতো কীভাবে দুজনের এক দম্পতিতে পরিণত হলো। হাউ স্ট্রেঞ্জ।
বিদেশি গোয়েন্দা মুখে স্ট্রেঞ্জ বললেও রুমে কেউ স্ট্রেঞ্জড অর্থাৎ আশ্চর্য হয় না। কেউ তার টিটকারিও গায়ে মাখে না। কারণ তাদের ট্রেকিং ডিভাইস টার্গেট ধরতে কাজে লাগবে। তাই নেতা বলে;
-এখন কী করব?
-প্রথমে ধোলাইপাড় থেকে শনিআখড়ায় গত কয়েক ঘণ্টার যত দম্পতি রাস্তা দিয়ে গেছে তাদের ওপর নজর ঢালুন। আমাদের টার্গেট হয়তো কারও স্বামী বা স্ত্রী হয়ে ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
-দ্বিতীয়ত?
-দ্বিতীয়ত, আপনাদের মাঝে একটি ফুটো দেখতে পাচ্ছি আমি। ছেলেটি নিশ্চয় জানতে পেরেছে, তাকে খোঁজ করা হচ্ছে, তাই হয়তো সে বেশ পরিবর্তন করে সবার চোখে ধুলো দিতে পেরেছে। আবার,
-আবার কী?
-আবার হয়তো এ লোকের পর্যবেক্ষণ শক্তি এতই নিখুঁত, তিনি পরিবেশ আঁচ করতে পেরে নিজেই বেশ পাল্টে ফেলেছেন।
সিচুয়েশন রুমের নেতা যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। তার স্বস্তি সংক্রমিত হয় দেশি সব গোয়েন্দার মাঝে। ডিবি অফিসের বিখ্যাত ‘ভাতের হোটেল’ থেকে আনা শ্রাবণ দিনের পাটিসাপটা পিঠার সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা চা দেওয়া হয় সবাইকে। পিঠা খেতে খেতে নেতা বলেন,
- আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের মধ্যে কেউ ডাবল ক্রস করেনি এবং কোনো ফুটোও নেই। কিন্তু বন্ধুদেশের স্পাই তাকে হতাশ করে বলেন,
- ডাবল ক্রস বা ফুটো থাকলেই বরং আমি খুশি হতাম।
পাটিসাপটা পিঠা নেতার মুখে আটকে যায়। বলেন,
-কারণ?
-কারণ আমরা এখন এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে ডিল করছি, যে মানুষের বাইরে দেখে ভেতর পড়ে ফেলতে পারে। এ লোক নিশ্চয়ই বহু সাধনা করে নিজেকে বড় করেছে। তার সামরিক ও নিরাপত্তা অভিজ্ঞতার ঝুলিও ভারী হতে বাধ্য। সবচেয়ে বড় কথা অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এসব বোমাবাজি বা অগ্নিকাণ্ড তার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। তার লক্ষ্য আরও বড়।
-কী সে লক্ষ্য হতে পারে?
বিদেশি অবলীলায় বলে ফেলেন,
-সে একটা দেশের প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার যোগ্যতা রাখে।
পুরো রুম একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যায়। বিদেশি, যেন কিছু হয়নি এমনভাবে বলেন,
-সরিয়ে দেওয়া মানে সব সময় হত্যাকাণ্ড নয়।
সতেরো
সিচুয়েশন রুমের লোকজন যখন আতঙ্ক আর উত্তেজনায় পাগল হওয়ার জোগাড়, তখন নেতা মিরপুরে শাহ আলির মাজারের মসজিদের ফ্লোরে চিন্তাহীন ঘুমে আচ্ছন্ন। সে আগেও দেখেছে মসজিদের শক্ত মাদুরের ওপর কোনো এক অজানিত কারণে শোয়ামাত্র ঘুম এসে যায়। আল্লাহ যে দুনিয়াতে কত জায়গায় কত রহস্য লুকায়ে রেখেছেন তার হিসাব কে রেখেছে।
তার ঘুম ভাঙল একজন মুরুব্বির মৃদু করাঘাতে।
ঘুম ভাঙলে নেতা দেখলো, তাবলিগের যে জামাত মসজিদে তাশরিফ রাখার কথা তারা ইতোমধ্যে এসে গেছে। সালাত এবং মাশওয়ারা শেষে তাদের একদল গাশতের জন্য (হেঁটে হেঁটে দ্বিনের দাওয়াত দেওয়া) অন্য দল আমিরে তোয়ামের নেতৃত্বে সন্ধ্যাকালীন খাদ্য সংগ্রহের জন্য বেরিয়ে পড়েছে। এই মুরুব্বি জিম্মাদার হিসেবে মসজিদে জিকিরের জন্য রয়ে গেছেন।
সালাম বিনিময়ের পর নেতা জানতে চাইল, জামাতে তেঁতুলঝরা গ্রামের কেউ আছে?
মুরুব্বি বললেন, না। তবে আমাদের নায়েবে আমির বলেছেন, যদি কেউ তার গ্রামের কথা জিজ্ঞেস করে তখনই শুধু বলতে।
নেতা বলল, আমিই এই জামাতের আমির। তবে বাদ এশা মাশওয়ারার পর ঠিক হবে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়।
মুরুব্বি কিছু বলেন না। জানালা দিয়ে বাইরের মেঘ ক্লান্ত দিনের অন্ধকার এসে মসজিদের পরিবেশ আতুর করে তোলে। দূরের কোণের জমায়েত থেকে ক্বারী আব্দুল বাসিতের কণ্ঠে সুরা দোহার সুমধুর সুর ‘ভাসিয়া আসে’- নিশ্চয়ই তোমার ভবিষ্যৎ অতীতের চেয়ে উত্তম হবে।
সুরার কথায় অনুপ্রাণিত নেতা মুরুব্বির সঙ্গে বাইরের আলোতে আসে। তারপর হেঁটে ১০ নম্বরের ব্রিজের ওপর ওঠে। এখান থেকে প্রায় পুরো মিরপুর একনজরে দেখা যায়।
নিচে হাতের বামে শহরের হুলুস্থুলের মধ্যে হজরত শাহ আলী বাগদাদীর মাজারটি যেন নিজেই তার পীরের মতো মোরাকাবার তৃতীয় কী চতুর্থ স্তরে গিয়ে ‘সমাধি মুদ্রা লাভ করিয়াছে’। নেতা ভাবে, ১৫ শতকের এই সুফি দিল্লি থেকে এখানে এসে ইসলামের প্রচারের জন্য কী অমানুষিক কষ্টই না সহ্য করেছেন। বিধর্মী অধ্যুষিত বিরানা প্রান্তরে খেয়ে না খেয়ে দিন গুজরান করেছেন, তারপর যখন দলে দলে ওরা এল ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে, চল্লিশ দিনের উপবাসী চিল্লায় চলে গেলেন, ফিরে আসলেন না আর কোনোদিন।
সেই কতদিন! নেতা ভবে, যদি বিপ্লব সমাপ্ত হয় কোনোদিন এসব ধুন্ধুমার কোলাহল ছেড়ে চলে যাবে সেরকম কোনো নিভৃতির নিরালায়, জীবন চিল্লায় কাটবে জীবনের অবশিষ্ট দিন শাহ আলী বাগদাদীর মতো।
কিন্তু এক্ষণে তার করণীয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। মুরুব্বিকে বলল, তার ঝোলায় একটি প্যাকেট থাকার কথা। মুরুব্বি এগিয়ে দিলে দেখা গেল এটি একটি কালো চশমা মাত্র। তবে চোখে পড়ার পর বোঝা গেল এটি আসলে চশমার আদলে তৈরি টেলিস্কোপ। সাধারণ টেলিস্কোপের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, কিন্তু কেউ বুঝতে পারবে না টেলিস্কোপ ব্যবহার হচ্ছে। যারা নেতাকে সাহায্য করছে, তাদের প্রযুক্তি জ্ঞানে বিস্ময় বোধ করল নেতা।
কিন্তু সময় ছিল কম। সে তার আগ্রহী দৃষ্টি মিরপুরের দক্ষিণে বিস্তৃত করলো। ব্লকেড চললেও এদিকের মিরপুর বরাবরের মতো মানুষের হাঁকডাকে জমজমাট। একজন আমড়া বিক্রেতা ক্রেতাহীন দাঁড়িয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পরপর ‘শব্দ করিয়া মেট্রোরেল চলিয়া যাইতেছে’। বাস-কারের অনুপস্থিতিতে রিকশা আর ভ্যানের রাজত্ব চলছে। ট্রাফিক পুলিশ স্থানে স্থানে কর্মহীন বসে আছেন, ট্রাফিক লাইটগুলো বিনা কারণে লাল-হলুদ-সবুজ হয়ে জ্বলছে আর নিভছে। নেতার মতো অখণ্ড মনোযোগে বৈদ্যুতিক তারের ওপর এক সারি কাক বসে আছে। একজন বৃদ্ধ ফেরিওয়ালা ভারা নিয়ে অসমর্থ কাঁধে ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছেন, তার চরণে ‘বেলা শেষের আলো আসিয়া পড়িয়াছে’।
এ সময় এক করুণ দম্পতি নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। তারা কোথাও যাওয়ার জন্য একাধিক রিকশাওয়ালার কাছে যাচ্ছে, কিন্তু বোধ করি অতিরিক্ত বাড়ার কারণে রিকশায় উঠতে পারছে না। আজ ব্লকেডের দিনে অতিরিক্ত রিকশা ভাড়ার অভিজ্ঞতা তার নিজেরও হয়েছে। কিন্তু এই দম্পতি নিজেদের সঙ্গে এখন কথা কাটাকাটি করছে। নেতার মনে হলো যদি এই জাদুর চশমাতে দেখার মতো শোনার ব্যবস্থাও থাকত, সে শুনত, মহিলা বলছে, সামান্য রিকশাতেই যদি না চড়াতে পারো বিয়ে করেছিলে কেন? তবে মুহূর্তেই নিজেকে তিরস্কার করে নেতা; বলে, হয়তো মহিলা এটাও বলতে পারে, আজ তো রাস্তা ফাঁকা, রিকশায় চড়ার দরকার কী, চলো হেঁটে চলে যাই, তোমার সঙ্গে কতদিন পাশাপাশি হাঁটা হয় না। নেতা বুঝতে পারে, এ আসলে তারই মনের কথা!
মিরপুরের ভরা বাজারের মধ্যে হঠাৎ তার কথা মনে পড়ে যায়। তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায় কেমন আছে সে? মনে পড়ে যায়, আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রামের নিরালায় তার কাছে আসা, একান্ত কাছে যখন তাদের মাঝখানের দূরত্ব ধনুকের ছিলার চেয়েও কমে একান্ত ছোঁয়াছুঁয়ির মধ্যে চলে এসেছিল। সেই রাত! আল্লাহকে সাক্ষী রেখে পরস্পরকে কাছে পাওয়ার সেই রাত! সে কি ভোলা যায়, ভুলতে পারে কেউ?
তার মনে পড়ে মন্দাকিনী ধারার সেই রাত। জনবসতি থেকে দূরে বহুদূরে চা বাগানের গহীনে সারা দিন কাটল আন্দোলনের প্রস্তুতিতে। রাত নেমে এলে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার তার ঘর ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন। একলা ঘরে ওর সঙ্গে থাকতে হবে; কী করি! কী করি! তারপর বৃষ্টি ভেঙে চা-বাগানের মসজিদের তরুণ ইমামের ঝুপড়িতে গিয়ে বলা- কবুল, কবুল। সেই কতদিন!
হঠাৎ তার ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে, তাকে তো জিজ্ঞাসাও করা হয়নি, তাদের ভালোবাসার ফসল কীভাবে তার ভেতর জমাট বাঁধছে, চাঁদের কলার মতো বিকশিত হচ্ছে দিন দিন।
সে আর ভাবতে পারে না। শ্যাওড়াপাড়া আর কাজীপাড়া দুটি পুলিশ ফাঁড়িই ‘ধোঁয়ায় ছাইয়া গেল হঠাৎ’। এবার দেখা গেল ধোঁয়ার ওপর কুণ্ডলিত আগুনের শিখা। চশমারূপী টেলিস্কোপ অ্যাডজাস্ট করে দেখল, দুটি স্টেশনেরই সিসিটিভিতে প্রথমে আগুন লাগল তারপর ছাই ভস্ম হলো সবকিছু।
মিরপুরের জমাট রাস্তাঘাটে মুহূর্তেই শ্মশানের নীরবতা নেমে এল। বন্ধ হয়ে গেল মেট্রোরেল।
ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি কেবল আসতে শুরু করছে। তার আগেই মুরুব্বিকে নিয়ে নেতা মসজিদের দিকে রওনা দিয়েছে। সে ভাবছে, শহরের ভেতরের ব্লকেডের দায়িত্বটা ছাত্রদের অনুপস্থিতিতে ট্র্যাডিশনাল রাজনৈতিক দলগুলোই নিয়েছিল। তার ভয় ছিল তারা অপারেশন চালানোর সময় লেজে গোবরে করে ফেলে। কিন্তু একবারে নিখুঁত একটা অপারেশন দেখে তাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা বেড়ে গেল অনেক। হয়তো দিনের পর দিন ব্যর্থ হতে হতে তারা এখন যথাযথই স্মার্ট হয়ে উঠেছে। তবে, এসব নেতার প্রতি তার আসল কৃতজ্ঞতা অন্য জায়গায়- তারা এখনো বলে চলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি তাদের নৈতিক সমর্থন আছে কেবল, তারা এতে অংশ নিচ্ছেন না। কারণ এতে সরকারি দল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিরোধীদল হাইজ্যাক করেছে বলার মওকা পাবে। তবে নেতা এও জানে বিপ্লব সফল হলে, শিক্ষার্থীরাই বলবে, বিরোধীদল নয়, ছাত্ররাই এই বিপ্লবের সব কৃতিত্বের অধিকারী! সে মনে মনে বলে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের এ ত্যাগ ও মহত্ত্ব কোনোদিন ভুলব না।
মসজিদের ভেতরে সবকিছু অন্যরকম। গাশতের দল ইতোমধ্যে ফিরে এসেছে। একদল মুসল্লি তাজবিদের মকশো করছে। বাইরে কয়েকজন খাবারের এন্তেজামে ব্যস্ত। তাদের দেখে মুচকি হাসল নেতা, কাল সকালে এদের পরীক্ষা হবে।
দেশে অনেক ইসলামি দল ও সংস্থা থাকলেও তাবলিগের প্রতি তার সমর্থন শর্তহীন। সে জানে, এটিই একমাত্র জামাত যারা তাকফিরি অর্থাৎ অন্যদের কাফির বলা থেকে বিরত থাকে, শুধু দাওয়াতের কাজটুকু করে যায় নীরবে। কিন্তু তাকে কষ্ট দেয় যখন শোনে, ইদানীং এখানেও ভাঙন ধরেছে। দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে নেতা, বলে হে মালিক, দ্বীনের এই শেষ পতাকাটুকু খণ্ডিত করো না।
আজ শাহ আলী মাজারের মসজিদের দৃশ্যমান স্বাভাবিকতার বিপরীতে হঠাৎ দমবন্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জামায়াতে কেউ জিকিরে নিমগ্ন থাকে, কেউ থাকে সালাত আর মাশোয়ারায়। কিন্তু আজ বৈরী পরিবেশ সবাইকে এই অভূতপূর্ব সমাবেশে একত্র করেছে।
আমির সাহেব আল্লাহ্, আল্লাহর রাসুলের অফুরন্ত সালাত ও সালাম বাদ বললেন,
-হে জামায়াত, আল্লাহ আমাদেরই উদ্দেশ করে কোরআনে বলছেন,
আমি দুনিয়াতে এমন একদল মানুষকে আমার প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছি যারা মানুষকে সত্য পথের দিকে ডাকবে আর মিথ্যার পথে বাধা দেবে। আমরা এতদিন দ্বীনের দাঈ হিসেবে নিজেদের সেই একদলের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম।
-কিন্তু আজ যখন সত্য এবং মিথ্যা ময়দানে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে, যখন মজলুমের কণ্ঠ স্তব্ধ করে বাতাসে জালিমের চিৎকার ভেসে আসছে, যখন দ্বীনের বিরুদ্ধে দুনিয়া বিজয়ীর পতাকা উড়াচ্ছে, যখন অবরুদ্ধ অগণন নরনারীর আর্তনাদে আল্লাহর জমিন ভারী হয়ে উঠেছে, যখন ধর্মকে মসজিদে তালা বন্দি করে অধর্মের কালো ঘোড়া দাবড়ে বেড়াচ্ছে দুনিয়ার রাজপথ; তখন, তখন দাওয়াতের বিনম্র পতাকাটি গুটিয়ে আমরাও কি মসজিদে এতেকাফ নিয়ে বসে থাকবো! বাইরের এই গরম হাওয়ার বিপরীতে মত্ত থাকব জিকিরের নরম হালকায়?
নেতা জানে তাবলিগে দাওয়াতের বয়ান কখনো এরকম জ্বালাময়ী হয় না। সে এও জানে, ৬ উসুল আর ৯ ফুরুর বন্ধনে তারা যুগ যুগ ধরে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আছে। তবে তার ভালো লাগে ইসলামের এই তাবলিগ জামাত অন্য কোনো দলকে কাফের ফতোয়া দেয় না। তাই ইদানীং বিভক্তি সত্ত্বেও তার বিশ্বাস ইসলামের টিম টিমে প্রদীপখানি আল্লাহ যুগ যুগ ধরে এদের মাধ্যমে প্রজ্বলিত রেখেছেন। আল্লাহ্ কি তার গ্রন্থে বলেননি, ওরা ফুঁ দিয়ে আমার বাত্তি নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু কালতুফানের মুখে আমিই দ্বীনকে দেদীপ্যমান রাখি।
-হে হাজিরান, কাল আমাদের পরীক্ষার দিন। আমরা কি পরিকল্পনা মতো মহল্লা থেকে মহল্লার দরজায় দাওয়াতের গাশত নিয়ে হাজির হব, না কি, আল্লাহ নির্ধারিত মৃত্যুক্ষণের আগে মরণের ভয়ে মসজিদ ছেড়ে বের হব না? আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
চলবে...
আরও পড়ুন