ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা মাপা আজকের দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন কিংবা ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা একদিকে রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, অন্যদিকে জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই ভাবেন আঙুলে সুঁই ফোটানো বা ব্লাড গ্লুকোমিটার ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ। বাস্তবে এই প্রক্রিয়া সঠিক নিয়মে করলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত।
ডায়াবেটিস মাপা কতটা নিরাপদ
গ্লুকোমিটারের মাধ্যমে আঙুল থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে সুগার মাপা একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে সাধারণত কোনো বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয় না। এক ফোঁটা রক্ত নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ল্যানসেট বা সুঁই একবার ব্যবহারযোগ্য এবং জীবাণুমুক্ত হয়। তাই সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এ ছাড়া এই পরীক্ষায় শরীর থেকে খুব সামান্য রক্ত নেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করে না। তাই নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস মাপা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ডায়াবেটিস মাপার সময় কী কী সতর্কতা মানতে হবে
ডায়াবেটিস মাপার সময় কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে পরীক্ষা আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ হয়—
হাত ধোয়া: রক্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। নোংরা বা ভেজা হাতে রক্ত নিলে ফলাফল ভ্রান্ত হতে পারে।
স্টেরাইল ল্যানসেট ব্যবহার: প্রতিবার নতুন ল্যানসেট বা সুঁই ব্যবহার করতে হবে। পুরোনো বা ব্যবহৃত সুঁই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
আঙুল পরিবর্তন করা: সব সময় একই আঙুলে সুঁই ফোটানো ঠিক নয়। প্রতিবার ভিন্ন আঙুল ব্যবহার করলে ব্যথা বা ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
পর্যাপ্ত রক্ত নেওয়া: কখনো খুব বেশি চাপ দিয়ে রক্ত বের করা উচিত নয়। কারণ এতে রক্তে অন্যান্য টিস্যুর তরল মিশে যেতে পারে এবং ফলাফল সঠিক নাও হতে পারে।
মেশিনের যত্ন: গ্লুকোমিটার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং টেস্ট স্ট্রিপের মেয়াদ দেখে নিতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ স্ট্রিপ ব্যবহার করলে ফলাফল ভুল আসতে পারে।
মাপার পর কী করতে হবে
রক্তের শর্করা মাপার পর কিছু ধাপ অনুসরণ করা জরুরি—
ফলাফল নথিভুক্ত করা: প্রতিবার মাপার পর তারিখ, সময় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা লিখে রাখা ভালো। এতে ডাক্তার রোগের অগ্রগতি সহজে বুঝতে পারবেন।
ক্ষতস্থানের যত্ন: আঙুলে রক্ত নেওয়ার পর পরিষ্কার কটন দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে রাখতে হবে, যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।
ফলাফলের বিশ্লেষণ: রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম হলে তা লক্ষ রাখতে হবে।
জীবনধারায় পরিবর্তন আনা: ফলাফল যদি বারবার বেশি আসে, তবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন- কম চিনি খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করা।
ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ: অস্বাভাবিক ফলাফল বারবার পেলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
সূত্র: মাই উপচার


