দাঁত মানুষের সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উজ্জ্বল ও ঝকঝকে সাদা দাঁত হাসিকে প্রাণবন্ত করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। অঞ্চল বা গায়ের রংভেদে মানুষের দাঁতের রং সাধারণত উজ্জ্বল সাদা বা হালকা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময় অভ্যাসগত কারণে বা পারিপার্শ্বিক কারণে দাঁতের রং বদলে যায়। এই পরিবর্তন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরে কিছু সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়।
কারণ
• নিয়মিত চা, কফি, ওয়াইন বা কোমল পানীয় পান করার ফলে এনামেল নষ্ট হয়ে দাঁত হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
• দীর্ঘদিন পান-সুপারি ও তামাক সেবনে দাঁতের রং বাদামি এবং সিগারেটের ধোঁয়ায় কালো হয়ে যায়।
• কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে পেপটিক আলসারে ভুগে থাকেন, তবে তার মুখে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস্ট্রিক জুস আসতে থাকে। এতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে দাঁত হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
• সবুজ বা ধূসর বর্ণ সাধারণত লিভার রোগের ইঙ্গিত দেয়। যেমন লিভার সিরোসিস বা ফ্যাটি লিভার অথবা পিত্তথলির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো রোগ।
• অন্তঃসত্ত্বা মা যদি টেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সিসাইক্লিন নামক ওষুধ সেবন করে, তবে বাচ্চার দাঁতের ওপর এর প্রভাব পড়ে।
• খেলাধুলা, মারামারি বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে বেশির ভাগ সময় সামনের দাঁত আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ওই সময় যদি যথাযথ চিকিৎসা করা না হয়, তা হলে ধীরে ধীরে দাঁতটি নিষ্প্রাণ হয়ে যায় ও বাদামি বর্ণ ধারণ করে।
• সঠিক পরিচর্যার অভাবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে দাঁতে কালো গর্ত তৈরি হয়।
• এ ছাড়া কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীরা এ ধরনের সমস্যার ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন।
করণীয়
দাঁতের রং পরিবর্তনকে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে এলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতের উজ্জ্বলতা ফিরে পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসা
এক্ষেত্রে রোগীর সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমন স্কেলিং-পলিশিং, ব্লিচিং, রেস্টোরেশন বা ভিনিয়ার নামক নানা ধরনের চিকিৎসা রয়েছে।
তাই আর অবহেলা নয়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শমতো চললে সুস্থ থাকবে আপনার দাঁত।
লেখিকা: ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন, চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা


