ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল
Nagad desktop

পটাশিয়াম স্বল্পতার সমস্যা

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৫৪ পিএম
পটাশিয়াম স্বল্পতার সমস্যা
কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম। ছবি এআই

শরীরে পটাশিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা ও হার্টের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ৩.৫ থেকে ৫.২ মিলিমোল (mEq/L)-এর মধ্যে থাকে। 

কম পটাশিয়ামের কারণ
বমি এবং ডায়রিয়া: ঘন ঘন বমি বা ডায়রিয়া
ওষুধ: মূত্রবর্ধক ওষুধ, স্টেরয়েড ওষুধ সেবন
কিডনি রোগ: ক্ষতিগ্রস্ত কিডনির পটাশিয়াম সংরক্ষণে অসুবিধা হয়
এন্ডোক্রাইন ডিজঅর্ডার: কুশিং সিনড্রোম, কোননস সিনড্রোম ইত্যাদি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির রোগ কিডনির পটাশিয়াম ধরে রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে
ঘাম হওয়া: ব্যায়াম, গরম আবহাওয়ার সময় ভারী ঘামে ত্বকের মাধ্যমে পটাশিয়াম বের হয়ে যায়।
অপর্যাপ্ত খাওয়া: খাওয়া-দাওয়া প্রয়োজনের চেয়ে কম করলে

কম পটাশিয়ামের লক্ষণ
শরীরে মৃদু পটাশিয়াম কম হলে...
ক্লান্তি এবং দুর্বলতা
পেশির খিঁচুনি: বেদনাদায়ক পেশি ক্র্যাম্প
অস্বাভাবিক হার্টের ছন্দ:  বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো এবং বুকে ব্যথা হতে পারে
হজমসংক্রান্ত সমস্যা:  হজমে সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে অস্বস্তি হয়
উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হাইপোক্যালেমিয়া- শরীরে অ্যালডোসরিওন নামক হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়

গুরুতরভাবে কম পটাশিয়াম
হার্টের সমস্যা: এরিদমিয়া, হার্ট ব্লক এবং হার্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে
শ্বাসযন্ত্রের ফেইলিউর: ভেন্টিলেটর সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে
পক্ষাঘাত: চার হাত-পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পক্ষাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে
মাংসপেশি দুর্বল: অন্ত্রের মাংসপেশি দুর্বল হওয়ার কারণে পেট ফুলে যাওয়া এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে

রোগ নির্ণয়
রক্ত পরীক্ষা: সেরাম ইলেকট্রোলাইট পটাশিয়ামের মাত্রা পরিমাপ করে। 3.5 mEq/L-এর কম হাইপোক্যালেমিয়া নির্দেশ করে। ৩ mEq/L-এর কম হলে গুরুতর ঘাটতি নির্দেশ করে।
২৪ ঘণ্টায় প্রস্রাবে পটাশিয়াম পরিমাপ নির্ধারণ করে যে, কিডনির মাধ্যমে পটাশিয়ামের অত্যধিক বের হচ্ছে কি না
ইসিজি: কিছু পরিবর্তন দেখে অনুমান করা যায়
অন্তর্নিহিত ব্যাধি পরীক্ষা করা: ওষুধের ইতিহাসসহ কিডনি এবং হরমোনগ্রন্থির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা

কম পটাশিয়ামের চিকিৎসা
খাদ্যতালিকা পরিবর্তন: পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার, যেমন- পাকা কলা, খেজুর, আম, জাম, লিচু, ডালিম, আনার, কাঁঠাল, কিশমিশ, সফেদা, ডাবের পানি, আমড়া, আমলকী, বরই, লেবু, তরমুজ, বেল, কমলা, মালটা, তেঁতুল,  নারিকেল ইত্যাদি খাওয়া।
মুখে পটাশিয়াম খেতে দেওয়া: ট্যাবলেট বা তরল পটাশিয়াম লবণ; যেমন- পটাশিয়াম ক্লোরাইড এবং পটাশিয়াম বাইকার্বনেট হালকা ঘাটতি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
আইভি পটাশিয়াম: গুরুতর হাইপোক্যালেমিয়ায় হাসপাতালে শিরায় পটাশিয়াম ইনফিউশন প্রয়োজন হয়।

লেখকের চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর -১০, ঢাকা

মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে
পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যাফেইন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মনোযোগ ধরে রাখা অনেকের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাসও মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। কিছু খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দেয়, স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে এবং চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

তৈলাক্ত মাছ

স্যামন, টুনা, সারডিনের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রচুর থাকে। এটি মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

 

ডিম

ডিমে রয়েছে কোলিন, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন বি১২। এসব পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করতে পারে।

আখরোট

আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আখরোট খেলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

ব্লুবেরি ও অন্যান্য বেরি জাতীয় ফল

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা বাড়তে পারে।

 

সবুজ শাকসবজি

পালং শাক, কলমি শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন কে, ফলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কুমড়ার বীজ

কুমড়ার বীজে জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন পাওয়া যায়। এসব খনিজ উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক।

ডার্ক চকলেট

পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যাফেইন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে মনোযোগ ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

ওটস

ওটসে জটিল শর্করা থাকে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

দই

দইয়ে থাকা প্রোটিন ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা মানসিক কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কমলালেবু

কমলালেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে এবং বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি

পানি সরাসরি খাবার না হলেও মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে
ছবি এআই

ডায়াবেটিক রোগী অসুস্থ হলে (যেমন- জ্বর, সর্দি, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ঝুঁকিসমূহ

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া)
হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া)
ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
পানিশূন্যতা

অসুস্থতার দিনের করণীয়

১। ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধসমূহ চালিয়ে যাওয়া 
বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ইনসুলিন এবং সালফোনাইলইউরিয়া গ্লিটিনাইড গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধের মাত্রা কমিয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

২। ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা
চার ঘণ্টা পরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে, তবে ২ ঘণ্টা পরপর বা আরও ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে

৩। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীর পরিচর্যাকারীর অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং রোগীকে কখন চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে সে ব্যাপারে জানতে হবে।

৪। পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে
পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে কারণ এটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করে এবং রোগীকে শক্তি জোগায়।

৫। অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৬। মূল অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৭। হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি ৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভালো না হয়।
২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন এবং ভালো না হন।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১৫ মিলি মোল/লির বেশি হয়।
চিকিৎসার পরও প্রস্রাবের সঙ্গে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়।
কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন), পেটে ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে।
রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
ডায়াবেটিসের সঙ্গে আরও অন্য অসুখ (Co-morbidity) থাকে।
যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন।

লেখিকা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, চেম্বার: আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর-৬, ঢাকা

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি
ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ চেনানো এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝানো।
ব্রেইন টিউমার একটি জটিল স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্কের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে সৃষ্টি হয়। এটি নারী, পুরুষ ও শিশু–সব বয়সের মানুষের হতে পারে। দেরিতে শনাক্ত হলে এটি প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

ব্রেইন টিউমার কী?

ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে। এটি দুই ধরনের হতে পারে–
বিনাইন: এটি ক্যানসার নয়, তবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে
ম্যালিগন্যান্ট: এটি ক্যানসারজনিত এবং দ্রুত ছড়াতে পারে

পরিসংখ্যান 

বিশ্ব পরিসংখ্যান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্র টিউমার রোগী শনাক্ত হয়। গড়ে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৪-৬ জন আক্রান্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ ক্যানসার রোগ ব্রেইন টিউমার।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান: বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট জাতীয় রেজিস্ট্রি সীমিত হলেও হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়। বছরে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার সার্জারি করা হয়। অনেক টিউমার দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
পুরুষ ও নারীর আক্রান্তের হার প্রায় সমান, তবে নারীদের মধ্যে মেনিনজিওমা বেশি। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে গ্লিওব্লাস্টোমা বেশি। শিশুদের মধ্যে মেডুলোব্লাস্টোমা বেশি দেখা যায়।

 

কারণ 

ব্রেইন টিউমারের নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে কিছু কাজ ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন–
বংশগত বা জেনেটিক সমস্যা
অতিরিক্ত রেডিয়েশন 
দীর্ঘদিন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
বয়স বৃদ্ধি (বিশেষ করে ৫০ বছরের পর ঝুঁকি বেশি)
কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

লক্ষণ

ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে বোঝা যায় না। টিউমারের অবস্থান ও আকারভেদে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো–
দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা (বিশেষ করে সকালে বেশি)
বমি বা বমি বমি ভাব
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা ডাবল দেখা
খিঁচুনি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া
হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা
আচরণ ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে শব্দ শোনা
মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া
হাত-পায়ের সমন্বয়হীনতা
এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকারভেদ 

গ্লিওমা: সবচেয়ে সাধারণ
মেনিনজিওমা: ধীরে বৃদ্ধি পায়
পিটুইটারি টিউমার: হরমোন সমস্যা সৃষ্টি করে
মেডুলোব্লাস্টোমা: শিশুদের বেশি হয়
অ্যাকোস্টিক নিউরোমা: শ্রবণশক্তিতে প্রভাব ফেলে

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে হতে পারে–
স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি
স্মৃতিভ্রংশ 
অন্ধত্ব বা শ্রবণশক্তি হ্রাস
পক্ষাঘাত 
মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন
মৃত্যুঝুঁকি

রোগ নির্ণয় 

আধুনিক চিকিৎসায় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। যেসব পরীক্ষা করা হয়, তার মধ্যে আছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, বায়োপসি বা টিস্যু পরীক্ষা এবং স্নায়বিক পরীক্ষা

সচেতনতা ও করণীয়

দীর্ঘদিন মাথাব্যথা অবহেলা করা যাবে না
খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে
সময়মতো এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানো জরুরি
ভুয়া চিকিৎসা বা গুজব এড়িয়ে চলতে হবে

পরিশেষে বলতে চাই, ব্রেইন টিউমার একটি জটিল রোগ। তবে সময়মতো শনাক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নেন। তাই পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ মস্তিষ্কই সুস্থ জীবনের ভিত্তি। সচেতন থাকুন, সময়মতো চিকিৎসা নিন।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

গান শোনা ও জাদুঘর পরিদর্শন বয়স বাড়ার গতি কমাতে পারে: গবেষণা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
গান শোনা ও জাদুঘর পরিদর্শন বয়স বাড়ার গতি কমাতে পারে: গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গান শোনা, জাদুঘর পরিদর্শন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানুষের বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে। 

গবেষকদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ শারীরিক ব্যায়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধার মতোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • গান শোনা এবং জাদুঘরে ঘুরে আসা ব্যায়ামের মতো কাজ করে এবং বয়স বাড়ার গতি ৪ শতাংশ কমাতে পারে
  • গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা এসব কার্যক্রমে বেশি অংশগ্রহণ করেন তাদের স্বাস্থ্যকর বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, তাদের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে ধীর। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রভাব প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

গবেষণাটিতে হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

আলোচিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ছিল গান শোনা, কনসার্টে অংশ নেওয়া, জাদুঘর পরিদর্শন, প্রদর্শনী দেখা এবং অন্যান্য সৃজনশীল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা এসব কর্মকাণ্ডে বেশি ঘন ঘন অংশ নেন, তাদের মধ্যে বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ কম দেখা যায়। 

গবেষকদের ধারণা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাগুলো মানসিক উদ্দীপনা, সামাজিক যোগাযোগ এবং আবেগীয় সুস্থতা বাড়ায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিল্পকলার সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে এবং জ্ঞান সম্পর্কিত কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যায়াম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় মূল্যবান সংযোজন হতে পারে। 

তাদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চা এমন কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

এই গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, আবেগীয় ও সামাজিক সুস্থতাকে সমর্থনকারী কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর অর্থবহ প্রভাব ফেলতে পারে। 

গবেষকরা আশা করছেন, এই ফলাফল মানুষকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধার আরও বেশি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবে।

তা সে প্রিয় কোনো অ্যালবাম শোনাই হোক, কোনো লাইভ পারফরম্যান্সে অংশ নেওয়া হোক কিংবা জাদুঘর ঘুরে দেখা হোক- শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানো স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়া এবং জীবনমান উন্নত করার একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

যখন ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
যখন ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট
পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।

লিগামেন্ট হলো শরীরের জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে থাকে। বিশেষ করে হাঁটুতে সামনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, পেছনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, মধ্যবর্তী পার্শ্বীয় লিগামেন্ট ও পার্শ্বীয় লিগামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ছিঁড়ে গেলে জয়েন্ট দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ

লিগামেন্ট ইনজুরির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে–
◉ খেলাধুলাজনিত আঘাত: ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফ বা মোচড় লাগলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে।
◉ দুর্ঘটনা: সড়ক দুর্ঘটনা, উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া বা ভারী আঘাত সরাসরি লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
◉ ভুলভাবে পা ফেলা: অসমতল বা পিচ্ছিল জায়গায় পা পড়লে বা হঠাৎ পা বেঁকে গেলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
◉ অতিরিক্ত শরীরের ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে যায়।
◉ বয়সজনিত পরিবর্তন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে যায়।
◉ পূর্বের আঘাত: একবার লিগামেন্টে আঘাত লাগলে একই জায়গায় পুনরায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

লক্ষণ

সাধারণ লক্ষণ: ◉ হঠাৎ তীব্র ব্যথা ◉ পা ফুলে যাওয়া ◉ হাঁটতে কষ্ট হওয়া ◉ জয়েন্টে অস্থিরতা অনুভূত হওয়া ◉ নড়াচড়ার সময় ‘পপ’ শব্দ হওয়া ◉ পায়ের শক্তি কমে যাওয়া।
গুরুতর লক্ষণ: ◉ হাঁটতে সম্পূর্ণ অক্ষমতা ◉ পা ভাঁজ করতে সমস্যা ◉ অতিরিক্ত ফোলা ও নীলচে দাগ ◉ জয়েন্ট ঢিলা বা আলগা অনুভূতি।

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন–
◉ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ◉ জয়েন্ট অস্থিতিশীলতা ◉ হাঁটু বা গোড়ালির ক্ষয়জনিত রোগ ◉ পেশির দুর্বলতা ◉ চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ◉ পুনরায় আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি।


রোগ নির্ণয়

লিগামেন্ট ইনজুরি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন–
◉ শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তার জয়েন্টের নড়াচড়া, ব্যথা ও স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করেন।
◉ এক্স-রে পরীক্ষা: হাড় ভাঙা বা অন্য কোনো হাড়ের সমস্যা আছে কি না দেখা হয়।
◉ চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রায়ণ: লিগামেন্টের ক্ষতির সঠিক অবস্থা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
◉ আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা: কিছু ক্ষেত্রে নরম টিস্যুর ক্ষতি নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়।

 

ঘরোয়া পরামর্শ 

বিশ্রাম: আঘাতপ্রাপ্ত পা সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
বরফ সেক: প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বরফ ব্যবহার করলে ফোলা ও ব্যথা কমে।
চাপ দেওয়া: ইলাস্টিক কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া যায়।
উঁচু করে রাখা: পা হৃৎপিণ্ডের চেয়ে উঁচুতে রাখলে ফোলা কমে।
ভারী কাজ: ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম।
খাবার: এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা করতে হবে।
ব্যথার ওষুধ: ব্যথার ওষুধ নিজে থেকে না খাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

◉ খেলাধুলার আগে ভালোভাবে শরীর গরম করা
◉ সঠিক জুতা ব্যবহার করা
◉ নিয়মিত পেশি শক্ত করার ব্যায়াম করা
◉ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
◉ ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এড়িয়ে চলা
◉ পূর্বে আঘাত থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা

পরিশেষে বলতে চাই, পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। হালকা ইনজুরিতে বিশ্রাম ও প্রাথমিক যত্ন যথেষ্ট হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক