১৯৫২ সালের ১৯ ফেব্রুযারি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ফুঁসছিল সারা দেশ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ দিন তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিপরীতে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা মারমুখী হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্ররা সারা দিন বৈঠক, মিছিলের প্রস্তুতি এবং সংগঠনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরদিন কর্মসূচি সফল করার কৌশল নির্ধারণ করেন। ছাত্রদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজপথে নামতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমন করতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়। ঢাকা শহরে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য সমাবেশস্থলগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। তবুও ছাত্রদের গোপন বৈঠক থামানো যায়নি। হলগুলোতে রাতভর পোস্টার লেখা, লিফলেট প্রস্তুত এবং স্লোগান ঠিক করার কাজ চলতে থাকে।
এ দিন ছাত্রনেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির আগে বৃহত্তর ছাত্রসমাজকে একত্রিত করতে হবে এবং ১৪৪ ধারা জারি হলেও তা ভাঙার মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। ফলে আন্দোলন কেবল দাবি থেকে প্রতিরোধের পর্যায়ে রূপ নিতে শুরু করে।