‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- অনাচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের সুর তোলা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ মে। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ২১ বছর বয়সে কলকাতার একটি ক্লিনিকে নিভে গিয়েছিল এই প্রতিভাধর কবির জীবনদীপ।
যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে গেলেও মাত্র কয়েক বছরের সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘গণমানুষের কবি’ হিসেবে। পরাধীন ভারতের বঞ্চনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেতাল্লিশের মন্বন্তর তার লেখায় ফুটে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করা সুকান্তের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও জীবনের পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের পর থেকে তার সাহিত্য ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়।
কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’; যা তাকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী আসন দিয়েছে।
অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’। ‘আকাল’ তার সম্পাদিত বিখ্যাত ফ্যাসিবাদবিরোধী কাব্যগ্রন্থ।
সুকান্ত কেবল কবিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, কিশোর বয়সেই তিনি লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’ এবং ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ‘দেবতাদের ভয়’। এ ছাড়া গল্প, গান এবং প্রবন্ধেও ছিল তার সাবলীল বিচরণ। আকাশবাণী কলকাতার ‘গল্প দাদুর আসরে’ তার লেখা গান গেয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী পঙ্কজ মল্লিক।