ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন
Nagad desktop

পুঠিয়া রাজবাড়ী নিদর্শনগুলো অবহেলিত, পর্যটক অসন্তুষ্টি

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ এএম
নিদর্শনগুলো অবহেলিত, পর্যটক অসন্তুষ্টি
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ীর বড় আহ্নিক মন্দিরের ছাদ (বাঁয়ে)। মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পঞ্চরত্ন মন্দিরে লাগানো পোড়ামাটির ফলক। ছবি: খবরের কাগজ

বিশাল মাঠের শেষ প্রান্তে ইন্দো-ইউরোপিয়ান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বহুতল ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ী। সম্রাট আকবরের সময় পুঠিয়া রাজবংশের উদ্ভব; আর এ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা পীতাম্বর। রাজশাহী-নাটোর সড়কে নাটোর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে পুঠিয়া উপজেলা সদরে দৃষ্টিনন্দন পাঁচটি মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামো রয়েছে। 

বহিঃশক্র থেকে রক্ষায় বহু বছর আগে খনন করা শিবসাগর দিঘী, গোবিন্দসাগর দিঘী, রাধাসাগর দিঘী, মরাচৌকি দিঘী আর হুগলা দিঘী ঘিরে রেখেছে পুঠিয়া রাজবাড়ীকে। আর এ রাজবাড়ীর পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন সময় তৈরি করা দোলমঞ্চ, পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির, দক্ষিণমুখী শিবমন্দির, গোপাল মন্দির আর বড় আহ্নিক মন্দিরের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন শত শত পর্যটক। কিন্তু তাদের জন্য নেই কোনো টয়লেট সুবিধা, থাকার বা বিশ্রাম করার ব্যবস্থা। নেই ভালো রেস্তোরাঁ, এমনকি বসার ব্যবস্থাও। 

পুঠিয়া রাজবাড়ীকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বহু বছর আগে পুঠিয়া গ্রুপ অব মনুমেন্টসে তালিকাভুক্ত করলেও এর নিদর্শনগুলো রক্ষণাবেক্ষণে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। ফলে মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নিখুঁত কারুকাজ করা পোড়মাটির ফলকগুলো। 

বগুড়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্বে আছেন এ কে এম সাইফুর রহমান। মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনে নিদর্শনগুলোর কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ‘লোনা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পোড়ামাটির দৃষ্টিনন্দন ফলকগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও পড়েছে ফলকগুলোয়। ফলে সৌন্দর্য আর উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোগুলো।’ 

গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামোগুলো রক্ষার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে আগামী জুলাই মাসে শুরু হবে কাজ।’ 

পুঠিয়ায় রাজবাড়ীসহ অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক অবকাঠামো দেখতে রাজধানী ঢাকা থেকে সপরিবারে আসেন সাখাওয়াত হোসেন বাবু। কেমন দেখলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে আমার ভালো লেগেছে, সুন্দর কারুকাজ করা মন্দিরগুলো দেখলাম। তবে মন্দিরগুলোর ওপরে ওঠা বন্ধ থাকায় কিছুটা অতৃপ্তি থেকে গেল। এখানে বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের খাবারের সুব্যবস্থা নেই, বাথরুম নেই। এগুলো থাকা দরকার ছিল।’ 

গাজীপুর থেকে এসেছিলেন আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। কেমন দেখলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভালো লেগেছে নিদর্শনগুলো বিশেষ করে রাজারবাড়ী, মন্দির ও আশপাশের পরিবেশ। তবে কিছু এলাকা নোংরা আর দুর্গন্ধে চলাচল করা কষ্টসাধ্য। দর্শনার্থীদের জন্য বসার ভালো জায়গা, খাবারের ভালো ব্যবস্থা আর টয়লেট সুবিধা নেই বললেই চলে। এসব ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীদের কষ্ট কম হতো।’ 

পুঠিয়া এলাকার বাসিন্দা রিকু মণ্ডল। এখানেই তার বেড়ে ওঠা। কী দেখেছেন ছোট বেলায় আর এখন কী দেখছেন আর দর্শক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কী করা যেতে পারে–এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্দির বা রাজবাড়ীতে ছোটবেলায় যা দেখেছি তার অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে, পুকুরগুলো সংস্কার করে বিনোদনের নানা উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে দর্শক-পর্যটক বাড়বে।’ 

পুঠিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, চারতলা বিশিষ্ট দোলমন্দির সংস্কার করা হয়নি অনেকদিন ধরে। পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দিরের অনেকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, ক্ষয় হয়ে গেছে পোড়ামাটির সুন্দর সুন্দর ফলক। বড় আহ্নিক মন্দিরের ছাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পোড়ামাটির ফলকও হারিয়েছে সৌন্দর্য। রাজবাড়ীর সৌন্দর্য এখনো কিছুটা ধরে রাখতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অন্য অবকাঠামোগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দিরে যেসব পোড়ামাটির ফলক রয়েছে তার অনেকগুলোতেই সূক্ষ্ম কারুকাজ দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে ধর্মীয় বিষয়। এ মন্দিরটি অন্তত ২৫০ বছর আগে নির্মিত বলে ধারণা করা হলেও মন্দিরের গায়ে যেসব পোড়ামাটির ফলক রয়েছে তা দেখে ধারণা করা হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত। রামায়ণ, মহাভারত ও পৌরাণিক কাহিনির ওপর ভিত্তি করে তৈরি পোড়ামাটির ফলকগুলোর অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে অথবা উজ্জ্বলতা হারিয়েছে। পুঠিয়া গ্রুপ অব মনুমেন্টের অন্যতম সুন্দর নিদর্শন এক কক্ষ বিশিষ্ট গোপাল মন্দির। এ মন্দিরের গায়ে লাগানো পোড়ামাটির ফলকেও রয়েছে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন চিত্র, হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ও রামায়ণ মহাভারতের কাহিনি ইত্যাদি। 

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম কচ্ছপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং এর সংরক্ষণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’। বিশ্বজুড়ে কচ্ছপ ও তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

সরীসৃপ শ্রেণির উভচর প্রাণী কচ্ছপ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জীব হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই প্রাণীর আয়ু মানুষের চেয়েও বেশি। তবে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির কচ্ছপ। নদী, খাল-বিল, ডোবা, গভীর সমুদ্র, মাটির গর্ত, গাছের গুড়ি কিংবা বালুময় স্থানে এদের বসবাস। একসময় দেশের নদী-নালা, পুকুর-ডোবা ও গ্রামীণ পরিবেশে সহজেই কচ্ছপ দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও জলাশয় ভরাট, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পানি দূষণ, খাদ্যাভাব এবং মানুষের নির্বিচার আক্রমণের কারণে কচ্ছপ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে প্রায় একশ’ প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কচ্ছপ সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম পাড়ার পর সেগুলো মাটি, বালি বা জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে রেখে যায়। এরপর ডিমগুলো প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল থাকে। প্রজাতিভেদে ৬০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

দীর্ঘায়ুর জন্যও কচ্ছপ বিশেষভাবে পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের নাম ‘জোনাথন’। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯০ বছর বলে ধারণা করা হয়। সত্য হলে এটি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু জীবিত প্রাণীদের অন্যতম।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/

গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (আর কে হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরীপুরের ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ১৫৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

এসিক অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি, ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে ছিল, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) কেক কাটা হয়। এরপর বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় ধানমহালে ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক খায়রুল আলম তুহিন, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এর সহসভাপতি ও এসিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সদস্য হিউবার্ড চক্রবর্তী, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিলসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা।

সমাপনী বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, গবেষক ও  ইতিহাস সন্ধানী মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার। 

আলোচনা সভায় গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কর্মময় জীবন, গৌরীপুরে উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা, ১৯১২-১৮ সালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি গঠনে তার অবদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অবদান তুলে ধরা হয়।

অমিয়/

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- অনাচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের সুর তোলা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ মে। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ২১ বছর বয়সে কলকাতার একটি ক্লিনিকে নিভে গিয়েছিল এই প্রতিভাধর কবির জীবনদীপ।

যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে গেলেও মাত্র কয়েক বছরের সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘গণমানুষের কবি’ হিসেবে। পরাধীন ভারতের বঞ্চনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেতাল্লিশের মন্বন্তর তার লেখায় ফুটে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করা সুকান্তের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও জীবনের পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের পর থেকে তার সাহিত্য ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়।

কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’; যা তাকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী আসন দিয়েছে। 

অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’। ‘আকাল’ তার সম্পাদিত বিখ্যাত ফ্যাসিবাদবিরোধী কাব্যগ্রন্থ।

সুকান্ত কেবল কবিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, কিশোর বয়সেই তিনি লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’ এবং ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ‘দেবতাদের ভয়’। এ ছাড়া গল্প, গান এবং প্রবন্ধেও ছিল তার সাবলীল বিচরণ। আকাশবাণী কলকাতার ‘গল্প দাদুর আসরে’ তার লেখা গান গেয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী পঙ্কজ মল্লিক।

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ০২ মে ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ী শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিতলা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের পুরনো হরিপূজা। এই নিয়ে টানা ১৪৮ বার আয়োজন করা হয় এই পূজা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ১৮ বৈশাখ এই পূজা উদযাপিত হয়।

শুক্রবার (১ মে) দুপুর থেকে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলে পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর পদাবলি কীর্তন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হরিতলা এলাকা।

রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত হরিতলা মন্দির শহরের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর হরিপূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে মন্দিরটি হরিতলা মন্দির নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই পূজার নাম অনুসারে পুরো এলাকাটিও হরিতলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হরিতলা মন্দির এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

হরিতলা এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী অভিজিৎ সোম অভি বলেন, ‘এই হরিপূজা আমাদের এলাকার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পূজা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই পূজা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার পরিচয়, আমাদের শিকড়ের সঙ্গে বাঁধনের উৎসব’।

প্রতি বছরের মতো এবারও এই পূজাকে কেন্দ্র করে হরিতলা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে পূজায় অংশ নেন।

সুমন/আমান