ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব কেমন ছিল দেশের প্রথম বাজেট? বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি চকরিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে কারারক্ষীর বাড়িতে ডাকাতি শিবচরে দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রংপুরে মিনিবাসের চাকা ফেটে নিহত ১, আহত ৩৪ সালথায় মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে
Nagad desktop

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ-জালিয়াতির অভিযোগ

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৩ পিএম
আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ-জালিয়াতির অভিযোগ
আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি । ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় ধনকুবের ও আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ঘুষ ও জালিয়াতির অপরাধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২০ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা গৌতম ও তার ভাতিজা সাগর আদানিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তির বিনিময়ে ভারত সরকারকে ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছেন, দাবি আইনজীবীদের। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০ বছরে আদানি গ্রুপ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মুনাফা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অভিযোগের মাধ্যমে আদানি পরিবার ও আদানি গ্রিন এনার্জি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিনিত জৈনের জালিয়াতিকাণ্ডও উঠে এসেছে।

বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের অপরাধমূলক কাজ ও দুর্নীতির তথ্য লুকিয়ে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছেন তারা।

প্রসিকিউটরদের দাবি, এই কাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তরা গৌতম আদানিকে ‘দ্য বিগম্যান’ বলে সম্বোধন করতেন। ঘুষের টাকা দেওয়া-নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ভাতিজা সাগর।

আদানির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা জালিয়াতি, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘুষবিরোধী আইনের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া আদানি পরিবারের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও করেছে ইউএস সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো অভিযুক্তকে আটক করা হয়নি। গৌতম আদানি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বসের মতে, ৬২ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ৬৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকায় ২২তম। মুকেশ আম্বানির পর তিনিই ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।

১৯৮৮ সালে আদানি গ্রুপের গোড়াপত্তন হয়। শুরুতে ট্রেডিং ফার্ম হিসেবে শুরু করলেও আদানি গ্রুপের এখন প্রধান ব্যবসা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি।

এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা হাইডেনবার্গ সেলার আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আয়কর জালিয়াতির অভিযোগ করেছিল। এর পরই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সূচকে নাটকীয় পতন দেখা যায়।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই অভিযোগের কিছুদিন আগেই আদানি গ্রিন বন্ড বিক্রি করে ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কাঠামোগত প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এ ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনৈতিক চাপে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোদির বিরুদ্ধে আদানিকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকেই। তবে মোদি এই অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ বলেছেন। সূত্র: রয়টার্স

নাইমুর/অমিয়/

মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয়

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয়
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির পরে যুক্তরাষ্ট্র জাস্ক, সিরিক এবং হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। হামলায় ৫০০ ও ২০০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা স্থানীয় মানুষের পানির প্রধান উৎস ছিল।

স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি বলেন, নিরাপদ পানির অভাবের পানিবাহিত রোগ, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ঝুঁকি এড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। তবে পানি সরবরাহ স্থাপনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই উভয় পক্ষ নতুন হামলা ও পাল্টা হুমকির অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি 

খাদিজা রুমি/

ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্থানীয় সময় ভোর ৪:৫০ মিনিটে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠিয়েছে কুয়েত।

বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, কুয়েত ইরানের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ও সমস্ত হুমকি দূর হলে দেশের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেবে এবং স্বাভাবিক ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে। 

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত চুক্তি এবং পরিচালন পদ্ধতি অনুসারে ফ্লাইটগুলোকে অন্য পথে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়াও যাত্রী এবং বিমান সংস্থাগুলোকে ডিজিসিএ কর্তৃক জারি করা সরকারি তথ্য অনুসরণ করতে এবং বিমান ভ্রমণ সম্পর্কিত যেকোনো নির্দেশনা ও নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলা এবং এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এই অস্থায়ী বন্ধের সিদ্ধান্ত এসেছে। যা এই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান চলাচলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

থিও

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ১৮টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের দাবি, সেখানে অবস্থানরত এবং হামলার জন্য প্রস্তুত থাকা মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি সাইট এবং কুয়েতের দুটি বিমান ঘাঁটিও এই হামলার শিকার হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত এক ডজন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'চুক্তির সমঝোতায় আসতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে, এখন তাদের এর মূল্য চুকাতে হবে।'

মার্কিন হামলার পরপরই ইরান কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী সব ধরনের আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে। এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে তাৎক্ষণিকভাবে ২ ডলারেরও বেশি বেড়েছে।

কুয়েত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং জর্ডান ও বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/অমিয়/

কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন
ছবি: সংগৃহীত

কানাডা সরকার একটি নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল উত্থাপন করেছে। যার মধ্যে উল্লেখ  করা হয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম প্ল্যাটফর্মগুলো এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে পারে।

এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবটকে আরও নিরাপদ করতে একটি ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিটাল রেগুলেটর) গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এই সংস্থা এআই সেবার জন্য নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল সেফটি অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের  পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো কানাডা।
 
এক বিবৃতিতে কানাডার  আইডেন্টিটি ও কালচারবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলার বলেন, 'অনলাইন ক্ষতির পরিণতি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। শিশুদের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই তুচ্ছ বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না'।

আইনটি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ৭২ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।

মার্ক মিলার বলেন,'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এবং এআই চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নকশা করা হয়েছে। এগুলো শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়ক নয়। বরং কানাডার বহু তরুণ-তরুণী মধ্যে উদ্বেগ একাকীত্ব, বিষণ্নতা এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার উৎস হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, 'এ আইন তরুণ কানাডিয়ানদের জন্য আরও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তাদের সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করবে'।
 
বিলটি সংসদে উত্থাপনের কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করে।

তাদের অভিযোগ, হামলাকারীকে ২০২৫ সালের জুন মাসে চ্যাটজিপিটিতে উদ্বেগজনক কথোপকথনের কারণে নিষিদ্ধ করার পরও প্রতিষ্ঠানটি জানত যে সে হামলার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু পুলিশকে সতর্ক করেনি।

বিল সি-৩৪-এর প্রস্তাবে কানাডা সরকার উল্লেখ করেছে, অনলাইনে ক্ষতিকর আচরণ শুধু ব্যবহারকারীদের কর্মকাণ্ডের ফল নয়, বরং ডিজিটাল সেবাগুলোর নকশা ও পরিচালনা পদ্ধতির সঙ্গেও তা গভীরভাবে জড়িত।

অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশ ব্যবস্থা, সম্পৃক্ততাভিত্তিক ফিড, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু হওয়া (অটোপ্লে) এবং অনন্ত স্ক্রলিংয়ের মতো বৈশিষ্ট্য ক্ষতিকর কনটেন্টকে আরও ছড়িয়ে দিতে পারে, তাতে করে তরুণ ব্যবহারকারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সরকারের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনলাইনে ক্ষতির ব্যাপ্তি, গতি ও তীব্রতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল সেবাগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে পারেনি। এ প্রেক্ষাপটে বিলটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই চ্যাটবট সেবাগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের সেবায় বিদ্যমান ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে। ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বয়সোপযোগী ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নকশা বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্লক বা রিপোর্ট করার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারকারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করা হলে অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণের বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আইন কার্যকরের এক মাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো প্রায় ৫০ লাখ কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের কারিগরি এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, বিলটি আইন হিসেবে পাস হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। আইন পাস হওয়ার পর ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনে আরও প্রায় ১৮ মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।

ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অন্যদিকে গ্রিস ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হবে।

খাদিজা রুমি/

হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের কঠোর নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ গোপনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অজান্তেই এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ২২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে এই বিপজ্জনক জলসীমা পার হতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি সহায়তা করে বলে তিনি জানান।

ইরান অন্ধকারেই ছিল: ট্রাম্প

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘গত মাসে আমি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করার জন্য একটি গোপন মিশন পরিচালনার নির্দেশ দিই।’

পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, এই গোপন প্রচেষ্টার ফলে ১০ কোটি ব্যারেলেলেরও বেশি তেল হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। লাইট নিভিয়ে মাঝরাতে পার হয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ইরান এই অভিযানের ব্যাপারে কিছুই জানত না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও করেন, ‘আমরা গত রাতেও সম্পূর্ণ অন্ধকারে ২২টি জাহাজ পার করে এনেছি। কারণ ওদের (ইরানের) কোনো রাডার ব্যবস্থা সচল নেই, আমরা আগেই সেগুলোকে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন মিশন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

মে মাসের শুরুতে এই রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন প্রশাসন। তবে মিত্রদেশগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় মাত্র একদিন পরেই ট্রাম্প সেটি বাতিল ঘোষণা করেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মে মাসের শেষের দিকে মার্কিন বাহিনী আবারও গোপনে এই তৎপরতা শুরু করে। যদিও সে সময় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নৌসেনা কর্তৃক পাহারা দেওয়ার খবরটিকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দেয়।

তবে প্রেসিডেন্টের আজকের এই স্বীকারোক্তির পর সেন্টকমের সেই লুকোচুরি এবং মার্কিন গোপন অভিযানের বিষয়টি একদম স্পষ্ট হয়ে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবির পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ইরান যদি এই গোপন অভিযানের খবরকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে, তবে জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর পাল্টা বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, যা চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ রূপ দেবে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/