ভারতীয় ধনকুবের ও আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ঘুষ ও জালিয়াতির অপরাধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২০ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা গৌতম ও তার ভাতিজা সাগর আদানিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তির বিনিময়ে ভারত সরকারকে ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছেন, দাবি আইনজীবীদের। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০ বছরে আদানি গ্রুপ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মুনাফা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের মাধ্যমে আদানি পরিবার ও আদানি গ্রিন এনার্জি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিনিত জৈনের জালিয়াতিকাণ্ডও উঠে এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের অপরাধমূলক কাজ ও দুর্নীতির তথ্য লুকিয়ে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছেন তারা।
প্রসিকিউটরদের দাবি, এই কাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তরা গৌতম আদানিকে ‘দ্য বিগম্যান’ বলে সম্বোধন করতেন। ঘুষের টাকা দেওয়া-নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ভাতিজা সাগর।
আদানির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা জালিয়াতি, জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘুষবিরোধী আইনের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া আদানি পরিবারের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও করেছে ইউএস সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো অভিযুক্তকে আটক করা হয়নি। গৌতম আদানি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বসের মতে, ৬২ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ৬৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকায় ২২তম। মুকেশ আম্বানির পর তিনিই ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
১৯৮৮ সালে আদানি গ্রুপের গোড়াপত্তন হয়। শুরুতে ট্রেডিং ফার্ম হিসেবে শুরু করলেও আদানি গ্রুপের এখন প্রধান ব্যবসা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি।
এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা হাইডেনবার্গ সেলার আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আয়কর জালিয়াতির অভিযোগ করেছিল। এর পরই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সূচকে নাটকীয় পতন দেখা যায়।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই অভিযোগের কিছুদিন আগেই আদানি গ্রিন বন্ড বিক্রি করে ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কাঠামোগত প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনৈতিক চাপে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোদির বিরুদ্ধে আদানিকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকেই। তবে মোদি এই অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ বলেছেন। সূত্র: রয়টার্স
নাইমুর/অমিয়/