দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং হিউনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ অ্যাজেন্সি তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দেশটির আইনজীবীদের দাবি, মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) প্রেসিডেন্টের সামরিক শাসন জারির পেছনে কিমের হাত ছিল।
এর আগে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের পর বুধবার (৪ ডিসেম্বর) পদত্যাগ করেন তিনি। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্টবিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতে, কিমই প্রেসিডেন্টকে সামরিক আইন জারি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এদিকে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে অভিসংশন ভোটে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ প্রস্তাবটি বাতিল হয়। তবে খোদ সরকারদলীয় নেতারাই বলছেন, দ্রুতই পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন প্রেসিডেন্ট।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ তদন্ত কমিটির ডাকে নিজেই উপস্থিত হয়েছিলেন কিম। রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিরোধী তিনটি দল প্রেসিডেন্ট ইউন, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ও সামরিক কমান্ডার পার্ক আন সু’র বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ দায়ের করে। এর অভিযোগের ভিত্তিতেই কিম গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়োনহাপ নিউজ অ্যাজেন্সি।
এ বিষয়ে দেশটির পুলিশ একটি পৃথক তদন্ত পরিচালনা করছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে সবাইকে চমকে দিয়ে দেশের সামরিক শাসন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন। তবে গণবিক্ষোভের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এর পর থেকে দেশজুড়ে প্রেসিডেন্টবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ নিয়ে দেশটির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নাইমুর/অমিয়/