দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গত ৩ ডিসেম্বর অপ্রত্যাশিত সামরিক আইন জারির পর ইওলকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্টের সিকিওরিটি কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ি, অভিযানে সামরিক শাসন ঘোষণা নিয়ে হওয়া আলোচনার যাবতীয় দস্তাবেজ উদ্ধার করতে ১৮ জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা তল্লাশি করেন।
সামরিক শাসন জারি করার পর ইওলের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তিনি বিক্ষােভের মুখে ছয় ঘণ্টা পর সামরিক শাসন তুলে নেন। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অভিসংশন প্রস্তাবিত হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন শাখা দেহদ্রোহীতার অভিযোগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ক্ষমতা ছাড়তে বিভিন্ন মহলের চাপেও রয়েছেন তিনি।
এদিক গ্রেপ্তারের পর আটক অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম-ইওং-হিউন।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানী সিউলের একটি ডিটেনশন সেন্টারে অন্তর্বাস ব্যবহার করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
এর আগে রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সামরিক আইন জারির বিষয়ে সব দায় স্বীকার করার পর গ্রেপ্তার হন কিম।
বর্তমানে তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। শারীরিকভাবে তিনি এখন সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে ক্ষমতাকাল কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট রাজি হওয়ার পর কেন অভিসংশন প্রস্তাব হবে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা।
তবে ইওলের পদত্যাগ বাস্তবায়ন না করার মাধ্যমে পুনরায় দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা।
বর্তমানে ইওলের কার্যত কোনো প্রশাসনিক প্রভাব নেই।
প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ইওলের রিরুদ্ধে তল্লাশির অনুমতি দেওয়া হলেও অভিযানের সময় তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
তদন্তের বিষয়ে সিউলের হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের অধ্যাপক ম্যাসন রিচি বলেন, ‘তদন্তের প্রতি প্রশাসনের সদিচ্ছার বিষয়টি এই অভিযানের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়।’ সূত্র: বিবিসি
নাইমুর/অমিয়/