বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুটি নতুন মডেলের যুদ্ধ বিমান চীনের আকাশে উড়তে দেখা গেছে। যুদ্ধবিমানগুলোর পাশে চীনের বর্তমান পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ যুদ্ধ বিমানকে একসঙ্গে উড়তে দেখা যায়।
চীনের বিমান নির্মাতা কোম্পানি চেংডু ও শেনইয়াং দুটি ভিন্ন মডেলের যুদ্ধবিমান আকাশে উড়িয়েছে। চেংডুর ডিজাইন করা বিমানটি তিন ইঞ্জিনবিশিষ্ট ও আকারে অনেকটা বড়। এর ডিজাইনে ডেল্টা-উইংস ব্যবহার করা হয়েছে। ডেল্টা উইংস হলো- ত্রিভুজাকার ডিজাইন। বিমানের পেছন থেকে সামনের দিকে গ্রিক অক্ষর ডেল্টার মতো মনে হয় বিধায় এটিকে ডেল্টা উইংস ডিজাইন বলা হয়।
অন্যদিকে শেনইয়াংয়ের ডিজাইন করা বিমানটি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ছোট। এতে দুটি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ডিজাইনে সোয়েপ্ট-উইংস রয়েছে। দুটি যুদ্ধবিমানেই উল্লম্ব ও অনুভূমিক স্ট্যাবিলাইজার নেই অর্থাৎ লেজ নেই। এটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধ বিমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ ডিজাইন রাডারে বিমানের সনাক্তকরণ কমাতে এবং গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
বিমানগুলোর ডিজাইন দেখে সামরিক বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে দাবি করেছেন। যদিও চীনের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানায় নি।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন ছাড়া কেউ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-২২ ও এফ-৩৫, রাশিয়ার সুখোই-৫৭ ও চীনের জে-২০ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। তুরস্কও কিছুদিন আগে টিএফ কান বিমান উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। ভারতও এএমসিএ যুদ্ধবিমানের প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেউ সার্ভিসে আনতে পারেনি। যদি চীন তাদের বিমানগুলোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করে তাহলে এটি চীনের সামরিক বাহিনী ও এভিয়েশন খাতের অনেক বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে
মাহফুজ/এমএ/