যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরল্যান্স শহরে বর্ষবরণ উৎসবে গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে উন্নীত হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারীর নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সন্দেহভাজন শামসুদ্দিন জব্বার পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। জব্বার উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) নিউ অরল্যান্সের মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। এ সময় তিনি ঘটনার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।
বাইডেন তার বক্তব্যে এই ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করেন। ওই ভিডিও থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন এবং তার কথায় হত্যার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত গাড়ির পেছনে উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের পতাকাসদৃশ একটি কালো পতাকা পেয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পতাকাটি আইএস অথবা সমমনা বিদেশি কোনো উগ্রবাদী সংস্থার হতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, অভিযুক্ত যে ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেছিল, তাতে সে আইএসে যোগ দেওয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিল। অবশ্য এখন পর্যন্ত আইএসসহ কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী হামলার দায় বা সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেননি।
কে এই সামসুদ্দিন জব্বার?
জব্বার মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ১০ বছর তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আফগানিস্তানে স্টাফ সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ রেকর্ড থেকে দেখা গেছে, জব্বার হিউস্টনে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির হয়ে কাজ করতেন। চার বছর আগে তিনি একটা ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হিউস্টন থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের বোমন্ট শহরে।
টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, জব্বার ইতোপূর্বে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ছোট আকারের একটি চুরির ঘটনায় ২০০২ সালের নভেম্বরে গ্রেপ্তার হন তিনি। দোষী সাব্যস্ত হলে অল্প জরিমানা করা হয় তাকে।