ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে আইন পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
এর আগে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
এরই প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়াতে আইসিসি নিষেধাজ্ঞায় পদক্ষেপ নিল মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
দেশটির পার্লামেন্টের প্রায় ২৪৩ জন সদস্য আইসিসির নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৮ জন রিপাবলিকান পার্টির নেতার সঙ্গে যোগ দেন ৪৫ জন ডেমোক্র্যাট।
অন্যদিকে বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেন ১৪০ জন।
এই বিল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বা মিত্ররাষ্ট্রের যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে আইসিসির কর্তৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হলো।
এ প্রসঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য ব্রায়ান মাস্ট বলেন, ‘নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু। একটা অনানুষ্ঠানিক আদালত তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইছে। তাই পার্লামেন্টের এই বিল পাস করা হয়েছে।’
এদিকে নিষেধাজ্ঞায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিসি বলে, ‘আদালতের কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বে আঘাতের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণের কারণে আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে বাধা হবে বলে মন্তব্য করে আইসিসি।
আইসিসির বিচারকাজে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবারই প্রথম নয়। ২০২০ সালে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হলে আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন।
পরে বাইডেনের শাসনামলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকায় এই বিল দ্রুতই কার্যকর করা হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে আত্মসমর্থনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে আইসিসি। আদালতের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই দাবি সংস্থাটির। সূত্র: রয়টার্স
নাইমুর/