যুক্তরাষ্ট্রেরের অবৈধ অভিবাসীরদের গুয়ানতানামো বে কারাগারে পাঠানো হবে। এজন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০ হাজার অভিবাসীর জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে এই কারাগারটি আটককেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই নির্দেশ দেন তিনি।
কিউবায় মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে অবস্থিত গুয়ানতানামো বে কারাগারে ইতোমধ্যেই একটি অভিবাসী আটককেন্দ্র রয়েছে। যেখানে কঠোর নিরাপত্তায় সন্দেহভাজন বিদেশি সন্ত্রাসীদের রাখা হয় এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কারাগার থেকে আলাদা।
নির্বাহী আদেশে সই করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমি একটি নির্বাহী আদেশ সই করেছি, সেখানে প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ৩০ হাজার অভিবাসী ধারণক্ষমতার আটককেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কেন্দ্রটি অবৈধ অভিবাসীদের আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। যারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য হুমকি। কিছু কিছু ব্যক্তি এতো খারাপ যে আমরা তাদের ধরে রাখার জন্য দেশগুলোর ওপর আস্থা রাখি না, কারণ আমরা চাই না তারা ফিরে আসুক। তাই আমরা তাদেরকে গুয়ানতামোয় পাঠাব। এটা আমাদের সক্ষমতাকে দ্বিগুণ করবে।’
ট্রাম্পের সীমান্তবিষয়ক প্রধান টম হোম্যান বলেছেন, ‘প্রশাসন বিদ্যমান বন্দিশালাটি সম্প্রসারণ করবে এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সেটির কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘এই কেন্দ্রটি সবচেয়ে খারাপদের জন্য ব্যবহৃত হবে।’
গুয়ানতানামো বে আটক কেন্দ্রটি ২০০২ সালে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। নাইন-ইলেভেনে সন্ত্রাসী হামলার পর সন্দেহভাজনদের বিদেশি সন্ত্রাসীদের আটক রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৫ জন বন্দী রয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্পের দুই পূর্বসূরি বারাক ওবামা এবং জো বাইডেন গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তারা কেবল বন্দীর সংখ্যা কমাতে পেরেছিলেন। অপরদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প এটিকে খোলার নির্দেশ দিলেন। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/অমিয়/