মার্কিন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে নিজেকে ফরাসি রাজা নেপোলিয়নের সঙ্গে তুলনা করে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের ফেডারেল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প সম্প্রতি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের এসব পদক্ষেপে আইনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির আদালত। প্রশাসনের বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশ আটকে দিয়েছেন বিচারকরা।
তবে সিদ্ধান্তের আত্মপক্ষ সমর্থনে রবিবারের (১৬ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে পোস্টে নেপোলিয়নের ভাষ্য তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘দেশের মঙ্গলে করা কোনো কাজই আইনের পরিপন্থি নয়।’ এরপর থেকেই ট্রাম্পের সমালচনায় সয়লাব ওয়াশিংটনপাড়া।
সাবেক লেবার সেক্রেট্রারি রবার্ট রেইচসহ বেশ কয়েকজন সমালোচক ট্রাম্পের ‘স্বৈরাচারী আচরণে’ ক্ষুব্ধ। রেইচের ভাষ্যে, ‘ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আইনবিরোধী প্রেসিডেন্ট।’
এদিকে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের মতো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন আটকে রেখেছেন ট্রাম্প। এতে দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক সংকট।
এ প্রসঙ্গে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সেনেটর টিম কেইন বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক ক্ষমতা থাকে। তবে মনে রাখতে হবে তিনিও আইনের ঊর্ধ্বে নন।’
গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। দ্য ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, এফডিএ, ইউএসএইড ও মার্কিন শিক্ষা কর্তৃপক্ষে রাষ্ট্রের দেওয়া অর্থসহায়তা বন্ধ রাখায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।রবিবার দেশটির কয়েকটি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থার অর্থায়ন আটকে দেওয়ার পর চলমান সংকট নতুন মাত্রা ধারণ করেছে।
সমালোচকদের দাবি, এসব রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আটকে দিয়ে ট্রাম্প তার ধনকুবের সহচর ইলন মাস্কের মালিকানাধীন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভের পথ সুগম করছেন।
ঝড়ের গতিতে রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় পরিবর্তন আনছেন ক্ষ্যাপাটে এই নেতা। তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন মাস্কের ‘ডিপার্ট্মেন্ট অব গভার্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি।’
সম্প্রতি গাল্ফ অব আমেরিকার নাম পরিবর্তন করে গাল্ফ অব আমেরিকা করেছেন ট্রাম্প। তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই নাম ব্যবহার না করায় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে এই সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি।
গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি। আগ্রাসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিপক্ষরাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারি মাসে ৩ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে। অথচ নির্বাচনী প্রচারণায় দ্রব্যমূল্য নাগালে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘জিনিসপত্রে দাম সামতিকভাবে বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন নাগরিকরা সুফল ভোগ করবেন।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নাইমুর/