ইস্তাম্বুলের গ্রেপ্তার ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) থেকে আসা মেয়র একরেম ইমামোগলুর সমর্থনে লাখো মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। সিএইচপি থেকে আসা ইমামোগলুকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হুঁশিয়ারি দেন, কেউ রাস্তায় বিক্ষোভ করলে ‘সন্ত্রাস দমন’ করা হবে। তবে বিক্ষোভকারীরা সেই হুঁশিয়ারি মানছেন না।
শনিবার (২২ মার্চ) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একরেম ইমামোগলু প্রেসিডেন্টের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার কথা ভাবছেন। সব ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে ঘোষণাও দিতেন। কিন্তু তার আগেই গত ১৯ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের পরপরই ফুঁসে উঠেন এরদোয়ানবিরোধীরা। রাস্তায় নেমে আসতে শুরু করেন তারা। গত শুক্রবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীরা তুরস্কের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইস্তাম্বুলের রাস্তায় নেমে আসেন।
বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা ওজগুর ওজেল জানান, ইস্তাম্বুলে তিন লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
ইস্তাম্বুলের সিটি হলের সামনে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সিএইচপি নেতা ওজেল বলেন, ‘আমরা তিন লাখ মানুষ।’
তিনি জানান, রাস্তাঘাট ও সেতু বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিক্ষোভকারীরা পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন।
এর আগে, গত বুধবার সকালে মেয়র ইমামোগলুকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। একইসঙ্গে এদিন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সরকার রাজনৈতিক সমাবেশের উপর চার দিনের নিষেধাজ্ঞাও জারি করে।
এই ঘটনার একদিন আগে ইস্তাম্বুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ইমামোগলুর ডিগ্রি বাতিল ঘোষণা করে। তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক, ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যত ইমামোগলুর প্রার্থী হওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়।
ইমামোগলু জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এরদোয়ান সরকারের সমালোচকেরা মনে করেন, ইমামোগলুর গ্রেপ্তার মূলত এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে আগামী নির্বাচনের আগেই সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ।
সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেছেন, তুরস্কের আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করে।
এরপর গত বুধবার ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের মধ্যে ৩২টিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৮৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় তুর্কি গণমাধ্যম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, অনলাইনে ‘ঘৃণা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আরও ৫৪ জনকে আটক করা হয়।
ইমামোগলু ২০১৯ সালের মার্চে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের আগে এরদোয়ান ও তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণে রাখে। সূত্র: রয়টার্স
দিনা/অমিয়/