ফিলিস্তিনের দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় টানা অষ্টম দিনের ইসরায়েলি হামলায় ৭ শিশুসহ কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ভোরে এই হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, সকাল থেকে দুপুর নাগাদই গাজায় কমপক্ষে ১০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এর আগের দিন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন, এমনটি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে মিশর ফিলিস্তিনের এই ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতি ফেরাতে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা এখনো ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি।
গাজার যুদ্ধবিরতি গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হলেও ১৮ মার্চ ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করে। এতে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন নারী ও শিশু। হামাস জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা হামলায় নিহত হয়েছেন।
মিশরের ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হামাস প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি দেবে এবং ইসরায়েল প্রথম সপ্তাহ শেষে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করবে। বর্তমানে হামাসের হাতে ৫৯ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, মিশরের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস সম্মত হলেও, ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। হামাসের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মিশরের প্রস্তাবে গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে হামাস জিম্মিদের মুক্তি দেবে।
এদিকে গত রবিবার গাজার নাসের হাসপাতালে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক সহায়তা সমন্বয় সংস্থার (ওচা) মুখপাত্র ওলগা চেরেভকো বলেছেন, ‘অনেকগুলো প্রাণ এবং গাজার অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আমরা ইসরায়েলের এই পাগলামি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্ব তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্ব যদি এখনই ব্যবস্থা নেয়, কেবল তখনই আমাদের সম্মিলিত বিবেক থেকে এই রক্তের দাগ মুছে ফেলা সম্ভব।’ সূত্র: আল-জাজিরা