রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমিতে অন্তত ২০ জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতরা সবাই তীর্থযাত্রী ছিলেন বলে জানা যায়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি মিসাইল সুমি শহরের কেন্দ্রে আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি গির্জার উদ্দেশে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসে আঘাত করে। বাসে থাকা যাত্রীরা মিসাইলের আঘাতে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েন। এদের মধ্যে অন্তত ২১ জনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি জানান, হামলায় আহত ও নিহতরা সবাই বেসামরিক নাগরিক। তারা পাম সানডে উপলক্ষে গির্জায় যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা এ হামলার শিকার হন। তিনি এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লিখেন, শত্রুদের মিসাইল শহরের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে। এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ও বাদ যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে এরকম হামলা কেবল একজন ‘বদমায়েশের’ পক্ষে চালানো সম্ভব। যুদ্ধকে জিইয়ে রাখতে রাশিয়া ঠিক এরকম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শান্তি ফেরানো অসম্ভব।
এদিকে আগামী শুক্রবার ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি আছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যে ইউক্রেনজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া।
মিসাইল থেকে বাঁচতে মিত্রদের কাছে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ইউক্রেনের বদলে ইসরায়েলে আকাশ প্রতিরক্ষা পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান