গুঞ্জন ওঠে অস্ত্রসমর্পণের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে হিজবুল্লাহ। গত ৮ এপ্রিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, অস্ত্রসমর্পণের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির এক জ্যেষ্ঠ নেতার বরাত দিয়ে খবরটি জানানো হলেও তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। পরে, এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর মিডিয়া অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে রয়টার্স সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
অবশেষে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেই জানা গেল অস্ত্রসমর্পণ করছে না ইরান সমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এ তথ্য জানায় গোষ্ঠীটির প্রধান নাঈম কাশেম।
এছাড়া ইসরায়েল আগ্রাসী আচরণ বন্ধ না কোড়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ কোনো আলোচনায়ও বসবে না।
শনিবার ( ১৯ এপ্রিল) প্রকাশিত বার্তা সংস্থা এপির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন বন্ধ না করা পর্যন্ত অস্ত্রসমর্পণ না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে হিজবুল্লাহ।
নাঈম কাশেম বলেন, ‘কাউকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না। এই অস্ত্রগুলোই লেবানিজদের প্রাণ এবং স্বাধীনতা। যখন আমাদের মাথার ওপর দিয়ে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছে এবং আমাদের দক্ষিণাঞ্চল তাদের দখলে রয়েছে, তখন কেউ কীভাবে আশা করে যে আমরা আলোচনায় বসব?’
তিনি আরো বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হিজবুল্লাহর আত্মসমর্পণের সমতুল্য। কাশেম বলেন, ‘এর অর্থ আলোচনা নয়, বরং আত্মসমর্পণই। আগে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করুক, লেবাননের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান নিয়ে ওড়া বন্ধ করুক। এরপর আমরা আলোচনার টেবিলে বসব, তার আগে নয়।’
হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তার সব শর্তই ৫ মাস ধরে মেনে চলেছে হিজবুল্লাহ। কিন্তু ইসরায়েল বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে বারবার শর্ত ভেঙে হামলা চালায়। গত নভেম্বরে ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু, এরপরও এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৭১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৪ জন শিশু ও নারী। মঙ্গলবার ( ১৫ এপ্রিল ) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় এ তথ্য জানায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েল বর্বর হামলা শুর করলে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ।গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদ জানানোকে তারা নিজেদের মানবিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করে।
পরে, দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ১৪ মাস ধরে চলা এই সংঘাতে প্রাণ হারান অন্তত ৪ হাজার লেবানিজ, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু কেবল হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো। সূত্র: এপি
দিনা