ইরানের বন্দর আব্বাসের শহিদ রাজী বন্দরে গত শনিবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। আহতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ জন।
রানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত শহিদ রাজী বন্দরটি ইরানের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বাণিজ্যিক সমুদ্রবন্দর। শনিবার সকালের ওই বিস্ফোরণে কাছের সব ভবনের জানালা, দরজা ও গাড়ি উড়ে যায়। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, তারা বিস্ফোরণের শব্দ ৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও শুনেছেন। এ ঘটনায় এখনো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের আগে কালো ধোঁয়াসহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তখন মানুষজন দৌড়ে পালাতে শুরু করেন। বিফোরণের পর রাস্তায় আহত মানুষ, গাড়ি, কাচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনায় প্রায় তিনটি ভিন্ন জায়গা থেকে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, আগুন এক কনটেইনার থেকে অন্যটিতে ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার আশপাশের স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়।
ইরানের একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, যে কনটেইনারগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে সেগুলোতে ব্যালাস্টিক মিসাইলের জন্য ‘অতি দাহ্য’ জ্বালানি সংরক্ষণ করা ছিল। এগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ না করায় বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। এসব জ্বালানি গত মার্চ মাসে চীন থেকে ইরানে আসে। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিস্ফোরণটি রাসায়নিক গুদাম থেকে হয়ে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার শিকার শহিদ রাজী বন্দরটি ইরানের সমুদ্র যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম বৃহৎ শিপিং চ্যানেল। এখানে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের জাতীয় জ্বালানি উৎপাদন কোম্পানি বলছে বন্দরে এ বিস্ফোরণ জ্বালানি পরিশোধন, জ্বালানি ট্যাংক কিংবা পাইপলাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ বিস্ফোরণ এমন সময়ে ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরমাণু বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা করার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: বিবিসি