পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের ‘বেশ কয়েকটি স্থানে’ বিমান প্রতিরক্ষা রাডার এবং ব্যবস্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ভারত। তবে ভারত সরকারের বিবৃতিতে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বিবৃতিতে বলা হয়নি। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের তৈরি হ্যারপ কামিকাজে ড্রোন দিয়ে চীনের তৈরি পাকিস্তানের এইচকিউ ১৬ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়।
বুধবার (৭ মে) মধ্যরাতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির সীমান্তে ভারত অপারেশন সিন্দুর চালানোর পর, দিল্লীর কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইসলামাবাদ। এরপর থেকেই আলোচনায় পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
রাশিয়ার ‘এস-৩০০’ এর আদলে বানানো এ প্রযুক্তি পাকিস্তান কিনেছিল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষায় আধুনিকতা আনতে। তবে বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি কতটা কার্যকর, ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্ন।
‘এইচ-কিউ-নাইন’ মিসাইল সিস্টেম এমন এক ধরনের ব্যবস্থা, যা ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার থেকে মিসাইল ছুড়তে সক্ষম। একটি সিস্টেমে থাকে ছয় বা তারচেয়ে বেশি ট্র্যাক। আর একেকটি ট্রাকে থাকে চারটি করে মিসাইল কনটেইনার। প্রতিটি মিসাইলের ওজন প্রায় দুই টন, দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৮ মিটার।
চীনের তৈরি এ প্রতিরক্ষা সিস্টেম পাকিস্তানের কোনো কাজে আসেনি, এমনটাই দাবি করছে ভারত। এ নিয়ে ভারতীয়দের ট্রোলিংয়েরও শিকার হচ্ছে পাকিস্তান। বলা হচ্ছে, বন্ধু দেশ চীন ঠকিয়েছে তাদের।
কিন্তু আসলেই কী তাই? ভারতের আক্রমণের পর তিনটি রাফাল, একটি সু-৩০এমকেআই, একটি মিগ-২৯ ফালক্রাম ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। তাই ধোঁয়াশা থেকেই যায় চীনের তৈরি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে
ইন্ডিয়া ডটকমসহ দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ব্লগে এইচ-কিউ-নাইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাকিস্তানে বহু প্রচারিত ও হাইফ তোলা চীনের তৈরি এইচ কিউ-৯ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ধরনের হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি।
এইচ-কিউ-নাইন রাশিয়ান এস-৩০০ এর আদলে তৈরি। তবে এর হাইব্রিড নকশা, রাডার, সিকার হেড এবং সি-২ উপাদানগুলো আমেরিকান এবং ইসরায়েলি প্রযুক্তি দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে ট্র্যাক-ভায়া-মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। যা ইনর্শিয়াল গাইডেন্স, মিড-কোর্স আপলিংক এবং টার্মিনাল অ্যাক্টিভ রাডারের একটি সমন্বিত প্রয়োগ। ডিফেন্স ইন্টারন্যাশনালের ২০০১ সালের একটি নিবন্ধ অনুসারে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ৬.৮ মিটার লম্বা এবং প্রায় দুই টন ভরের। প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাস যথাক্রমে ৭০০ মিলিমিটার এবং ৫৬০ মিলিমিটার। ওয়ারহেডের ভর ১৮০ কেজি। ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার থেকে মিসাইল ছুড়তে সক্ষম। বলা হয়ে থাকে, সিস্টেমটি শত্রু মিসাইল শনাক্ত করে আকাশে তা ধ্বংস করতে সক্ষম। এ ছাড়া বিশেষ মুহূর্তে শত্রু স্থাপনায় মিসাইল হামলা করতেও সক্ষম এটি।
/সিফাত