রাশিয়ার ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার (৮ মে) থেকে শুরু হয়েছে। কিন্তু এ সময়েও ইউক্রেনে আঘাত হানা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সুমি অঞ্চলে বোমাবর্ষণ করেছে রাশিয়া।
এ যুদ্ধবিরতিতে ইউক্রেন সম্মতি দেয়নি। তারা চেয়েছিল ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি, যা পুরো সংঘাত অবসানের প্রথম ধাপ হবে। তবে রাশিয়া বিষয়টিকে আমলে নেয়নি। এত দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি দিতে রাজি নয় তারা।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বৃহস্পতিবার ( ৮ মে) জানায়, উত্তর ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর রাশিয়ার বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণা অনুসারে, যুদ্ধবিরতি ৮ থেকে ৯ মে পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে রাশিয়া। সে জন্যই যুদ্ধবিরতি দেওয়া। ক্রেমলিন এ যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে বলেছে, এটি শান্তির জন্য কিয়েভ কতটা প্রস্তুত, সেটি পরীক্ষা করবে। তবে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি আসলে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত বুধবার জানান, তিনি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মানতে বাধ্য নন। তার দেশ ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির পক্ষে। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করছি না, যা কূটনীতিকে একটি সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের ওপরই শান্তির জন্য চাপ তৈরি করছে। তারাও গত মার্চে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে মস্কো সে সময় বলেছিল, এটি টিকিয়ে রাখার মতো প্রক্রিয়া সামনে নিয়ে আসার পরেই শুধু এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
এদিকে দুবার বোমাবর্ষণ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আর কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানা যায়নি। ইউক্রেনের আর কোনো শহর আক্রান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী।
রাশিয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে- এমন শঙ্কায় ইউক্রেন অবশ্য নিজেদের সাতটি অঞ্চলে সতর্কতা জারি করে রেখেছে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বাহিনী ছুটির দিন উপলক্ষে পুতিনের জারি করা নির্দেশনা মেনে চলবে। তবে ইউক্রেন যদি কোনো হামলা চালায়, তাহলে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ জবাব দেবে।
মস্কোতে শি জিন পিং
রাশিয়ার উদযাপন আয়োজনে যোগ দিতে বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা মস্কো সফর করছেন। তাদের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংও রয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণের ভিত্তিতে গত বুধবার চার দিনের সফরে দেশটিতে পা রেখেছেন তিনি। বিশ্বনেতারা সবাই আজ শুক্রবার (৯ মে) মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক প্যারেড উপভোগ করবেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবর বলছে, শি জিন পিংকে ক্রেমলিনে স্বাগত জানান পুতিন। এটি চীনের নেতার ১১তম রাশিয়া সফর।
শি বলেছেন, চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং বেইজিং মস্কোর সঙ্গে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়তে কাজ করতে আগ্রহী।
পুতিন চীনের প্রেসিডেন্টকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। অন্যদিকে শি পুতিনকে ‘পুরোনো বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন।
শিকে বহনকারী বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যাত্রাপথের পুরোটাজুড়েই সঙ্গে ছিল রাশিয়ার যুদ্ধবিমান। তিনি রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর সামরিক ব্যান্ড রাশিয়া ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। চার দিনের সফরে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক গভীরে শির বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান