পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’ নামে অভিযান পরিচালনা করছে ভারতে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পরিচালিত ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানোর পর ভারতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুগুলো নিশানা করে হামলা করা হচ্ছে বলে দাবি করছে পাকিস্তান।
শনিবার (১০ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন রাষ্ট্রীয় মাধ্যম এবং নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’-এ ভারতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
এর মধ্যে ভারতের পাওয়ার গ্রিডে সাইবার আক্রমণ চালানো হয়, যার ৩০ শতাংশ সফল বলে দাবি করা হয়।
তাছাড়া, আদমপুরে পিএএফ-এর জেএফ-সেভেন্টিনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা ভারতের এস-৪০০ ব্যবস্থা ধ্বংস, কেজি টপ ব্রিগেড সদর দপ্তর, উরি সরবরাহ ডিপো, আদমপুর; উধমপুর; পাঠানকোট এবং সুরাটগড় বিমানক্ষেত্র, দেহরংয়ারিতে আর্টিলারি বন্দুকের অবস্থান; বিয়াসে ব্রহ্মোস মজুত রাখার স্থানে হামলা চলানো হয় বলে দাবি করা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিভি নিউজ জানায়, পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত থাকায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী-সহ (বিএসএফ) বেশিরভাগ ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়।
অন্যান্য হ্যাক করা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্রাইম রিসার্চ ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি, মহানগর টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেড, ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড, অল ইন্ডিয়া নেভাল টেকনিক্যাল সুপারভাইজরি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড, ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ডেটা ফাঁস হওয়া সাইটের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী, মহারাষ্ট্র নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য। এ ছাড়াও, আড়াই হাজারের বেশি নজরদারি ক্যামেরাও হ্যাক করা হয়।’
এদিকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার বলেছেন, পাকিস্তান প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গিতে কাজ করছে এবং ভারতের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।
জিও নিউজকে উপ-প্রধানমন্ত্রী দার বলেন, ‘ভারত গত তিন দিনে যে তামাশা করেছে, আমরা ভারতকে আধিপত্য দাবি করতে দেব না। এ নিয়ে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এটা হতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে অভিযান শুরু করেছি তা কোনো না কোনোভাবে শেষ হবে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ভারত কী চায় তার ওপর।’
‘পাকিস্তানের কোনো উপায় ছিল না, তাই আমাদের বেসামরিক সামরিক নেতৃত্ব নূর খান এয়ার বেসে হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর কোনো ধৈর্য নয়। আমরা শুধু তাদের জবাব দিচ্ছি। আমরা এ পর্যন্ত অনেক ধৈর্য দেখিয়েছি। একটি সীমা আছে যা আমরা অতিক্রম করতে পারি না, বিশেষ করে যখন ভণ্ডামি এবং দ্বৈত মানদণ্ডের কথা আসে,’ বলেন তিনি।
‘পাকিস্তান বেসামরিক সামরিক নেতৃত্ব যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা যথাযথ। আরো অনেক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে এবং আমরা তার জন্য প্রস্তুত। তবে এটি এই মুহূর্তে নেওয়া সর্বনিম্ন পদক্ষেপ যা কিছু সময়ের জন্য চলবে। এটি যথাযথ এবং পরিমাপিত, এবং তারা যা করেছে, আমরা তার প্রতিশোধ নিচ্ছি। এমনকি প্রথম দিনেও, আমরা আমাদের জায়গায় ছিলাম এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা জেটগুলিতে আক্রমণ করেছিলাম, যার মধ্যে পাঁচটি আমরা গুলি করে ভূপাতিত করেছি। আক্রমণাত্মক না হওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ ছিল। আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা হয়েছে এবং তা শেষ হয়ে গেছে, এবং যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা প্রতিশোধমূলক এবং প্রতিরক্ষামূলক, বিশ্ব তা দেখতে পারে।’ সূত্র: দ্য ডন
অমিয়/