ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকস্মিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। পরে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেল লক করে দিয়েছেন!
রবিবার (১১ মে) সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপের মুখে পড়েন তিনি। সোমবার (১২ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার এক্স অ্যাকাউন্ট লক দেখা গেছে।
‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানে পাকিস্তানের ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তান পাল্টা ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’ ঘোষণা করে। টানা চার দিনের উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
শনিবার (১০ মে) যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পররাষ্ট্র সচিবের এক্স হ্যান্ডলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা আক্রমণ শুরু করেন। এ সময় তাকে অনেকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধবিরতির জন্য তাকেই দায়ী করা হয়।
এমনকি তার পরিবারের পুরোনো পোস্ট খুঁজে বের করে মেয়েকে বিদেশে পড়াশোনা করানো এবং মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্যও মিশ্রির বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হয়।
চার দিনের সামরিক সংঘাতের সময় পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে বিক্রম মিশ্রি গত ১০ মে বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দেন।
গত ৭ মে ভারত ঘোষণা করে, তারা পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছে।
ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ চার দিনের উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক সংঘাতের পর, শনিবার সন্ধ্যায় মিশ্রি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালীন বিজেপি এবং কট্টরপন্থী অ্যাকাউন্টগুলোর অতিরঞ্জিত বক্তব্যের বিপরীতে বিক্রম মিশ্রি সরকারের পক্ষে কম বিবৃতি দেন।‘
‘সরকারের সমালোচনা করা গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য’ এমন মন্তব্যও ছিল তার এক বিবৃতিতে।
এছাড়া বিজেপির অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ভারতের হামলায় জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্ত্রাসী আবদুল রউফ আজহার নিহত হয়েছেন। কিন্তু বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কোনো তথ্য নেই’।
এরপর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর, কট্টরপন্থি অ্যাকাউন্টগুলো যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ভারত পিছু হটেছে এবং এর জন্য মিশ্রিকেই দায়ী করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে মিশ্রির পোস্ট করা একটি পুরোনো ছবি খুঁজে বের করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে মিশ্রিকে ‘পাকিস্তানের কাছে মাথা নিচু করার’ জন্য ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন অনেকে।
এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া পররাষ্ট্র সচিব সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং রাজনৈতিক নেতাদের থেকে জোরালো সমর্থন পেয়েছেন।
আইএএস অ্যাসোসিয়েশন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে মিস্ত্রি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী একজন বেসামরিক কর্মকর্তার ওপর ‘অযৌক্তিক ব্যক্তিগত আক্রমণ’-এর নিন্দা জানান। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
সুলতানা দিনা/অমিয়/