গাজা উপত্যকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েল কোনো সমালোচনা আমলে নিচ্ছে না। শুধু গাজায় নয়, পশ্চিম তীরেও তারা অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি পশ্চিম তীরে সফররত বিদেশি কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ইসরায়েলের ওপর গাজায় সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া চাপ কাজে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। গাজায় অবশেষে সহায়তা ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও যে সহায়তা প্রবেশ করছে, তা যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও অভিযান নিয়ে সতর্ক করেছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ না থামালে এবং সহায়তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা।
যুক্তরাজ্য সরকার এর একদিনের মাথাতেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জেরে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ করায় দেশটির সঙ্গে চলমান মুক্তবাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে তারা।
পার্লামেন্টে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য সমঝোতার পরিসর বৃদ্ধি নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, তা আর যুক্তরাজ্য সরকারের জন্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না। এ জন্য তিনি দায়ী করেছেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের প্রয়োগ করা ‘বিশেষ নীতিমালাকে’।
শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক পুনঃমূল্যায়ন করবে। ইইউ-এর বিদেশ নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস নিশ্চিত করেছেন যে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করতে সম্মত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৩ হাজার ৬৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৫০ জন। অন্যদিকে, অবরুদ্ধ উপত্যকাটির সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০-এরও বেশি হবে। দপ্তরটি ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার গাজাবাসীকে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়েছে বলে জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে সাইরেন বাজানো হয়েছিল। এর আগে গত সোমবার ও আগের সপ্তাহের বৃহস্পতিবারও একই রকম হামলার কথা জানিয়েছিল ইসরায়েল। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ইয়েমেন থেকে হুতি গোষ্ঠী এ হামলাগুলো চালাচ্ছে।
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। মাঝে বেশ কয়েক দিন তারা লোহিত সাগরে জাহাজের ওপরও হামলা চালায়। পরে এর জেরে হুতিদের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রও। পরবর্তী সময়ে হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে আসে যে তারা আর লোহিত সাগরে কোনো জাহাজের ওপর হামলা চালাবে না। সূত্র: আল-জাজিরা