গাজার দক্ষিণের রাফাহ শহরের একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ ট্যাংক থেকে এলোপাতাড়ি গুলিতে কমপক্ষে ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।
গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন-জিএইচএফ নামক ওই ত্রাণকেন্দ্রটি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি চালু হওয়া এই ত্রাণকেন্দ্রটি পরিচালনায় ইসরায়েলি সমর্থন রয়েছে। হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।
তবে এ সংস্থার ত্রাণ বিতরণ নিয়ে গাজাবাসীর মধ্যে সন্দেহ রয়েছে এবং কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির ত্রাণ বিতরণের নিরপেক্ষতা নিয়ে। কারণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় ত্রাণ বিতরণে বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যেন হামাস সংশ্লিষ্ট কেউ ত্রাণ না পায়। গত ২৮ মে এই সংস্থার ত্রাণ বিতরণের সময় ত্রাণকেন্দ্রের কাছে হামলায় ৩ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছে।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন পুরো গাজা ভূখণ্ড চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা এখন বিশ্বের সবচেয়ে খাদ্য-অনিরাপদ স্থান। পুরো জনসংখ্যাই দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানায়, গত কয়েকদিনে অনুমোদিত ৯০০ ত্রাণবাহী ট্রাকের মধ্যে মাত্র ৬০০টি গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ২ লাখ মানুষের এক মাসের খাদ্য মজুত থাকলেও, নিরাপত্তাজনিত বাধায় তা গাজায় পাঠানো যাচ্ছে না।
সম্প্রতি নতুন একটি ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের বদলে একটি মার্কিন কোম্পানি ইসরায়েলি সামরিক সহায়তায় কাজ করছে। এতে করে বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে। অনেক স্থানে ক্ষুব্ধ মানুষ ত্রাণকেন্দ্রে ঢুকে পড়ছে, শুধু খাবার ও ওষুধের জন্য।
হামাস এই নতুন ত্রাণ ব্যবস্থাকে ‘অমানবিক প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেছে। তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন ‘ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন’ বন্ধ করে নিরাপদভাবে ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাসের জবাব ‘অগ্রহণযোগ্য’
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত প্রস্তাবে শনিবার হামাস তাদের জবাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে হামাস জানায়, চুক্তির অংশ হিসেবে প্রতিরোধের (হামাসের) হাতে থাকা দখলদার বাহিনীর ১০ জীবিত বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং ১৮টি লাশ ফেরত দেওয়া হবে- যার বিনিময়ে নির্ধারিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ ওই জবাবকে ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, হামাস এখনো ‘অগ্রহণযোগ্য’ অবস্থানে এবং তাদের ‘অস্বীকৃতির নীতিতেই’ অনড় রয়েছে। হামাসকে হয় প্রস্তাব মেনে নিয়ে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে, নয়তো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে সব ইসরায়েলি বন্দির মুক্তির কথা বলা হয়েছে কিন্তু স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কোনো কথা উল্লেখ নেই। হামাস চায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা। হামাসের জবাবের পর উইটকফের মন্তব্যকে পক্ষপাতমূলক ও ‘ইসরায়েলের অনুকূলে’ বলে মন্তব্য করেছে হামাস। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন