অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। রবিবার (২৯ জুন) কাফর জাবালিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিজেদের সেনা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এছাড়া, হামাস-সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায় এদিন গাজা স্ট্রিপ জুড়ে আইডিএফের গুলিতে ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত সেনার নাম ইসরায়েল নাতান রোজেনফেল্ড। বয়স মাত্র ২০ বছর। তিনি সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ৬০১ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের একজন সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আকাবাত হা-বারজেল (৪০১) ডিভিশনের অংশ হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তিনি রা'আনানার বাসিন্দা।
চলতি মাসের শুরু থেকে যুদ্ধে নিহত ২০তম সৈনিক রোজেনফেল্ড ১১ বছর আগে তার পরিবারের সাথে লন্ডন থেকে ইসরায়েলে আসেন। তিনি তার বাবা-মা এবং তিন ভাইবোন রেখে গেছেন। তার বোনের প্রেমিক ৭ অক্টোবর কিবুৎজ সুফার কাছে হামাসের সাথে লড়াইয়ে নিহত হন।
আইডিএফ জানায়, রোজেনফেল্ড হলেন জুন মাসে গাজায় নিহত ২০তম ইসরায়েলি সেনা। চলতি মাসে গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
গত শুক্রবার গাজার উত্তরাঞ্চলের তুফাহ এলাকায় হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেড ইসরায়েলের একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে বিস্ফোরক রকেট হামলা চালায়। এতে যানটির ভেতরে থাকা ১৭ জন সেনার মধ্যে ৭ জন নিহত হন এবং আহত হন বাকি ১০ জন আইডিএফ সেনা।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, চলতি বছরের মার্চে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩০ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধপর্বে এ পর্যন্ত ৮০০-এর বেশি ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
আইডিএফের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, কাফর জাবালিয়া এলাকায় অভিযানের সময় রোজেনফেল্ড একটি বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে নিহত হন। রোজেনফেল্ডের মৃত্যুর ফলে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ এবং সীমান্তে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের নিহতের সংখ্যা ৪৪১ এ পৌঁছেছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করার জন্য রবিবার (২৮ জুন) রাতে দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সুলতানা দিনা/