ইসরায়েল গতকাল সোমবারও গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এর একদিন আগেই গত রবিবার ফিলিস্তিনিদের গাজা সিটির পূর্ব অংশ থেকে সরে যেতে হয়েছে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সেখান থেকে সরে এসেছে বলে জানা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, গতকাল সোমবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ গাজার জেইতুন শহরে ১০ জন মারা গেছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজাজুড়ে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে উত্তর গাজায়। স্থলভাগেও ব্যাপক হামলা যেকোনো সময় হতে পারে এমন শঙ্কায় ভুগছেন গাজাবাসী।
এমন একটি সময়ে এ হামলা হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার বলছে যুদ্ধবিরতি অতি সন্নিকটে। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে অনেক দিন ধরেই যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে। মাঝে দুই বার যুদ্ধবিরতি হয়েও তা ভেঙে পড়েছে। তবে এবার কী হবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। ইসরায়েলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডেরমেরের উপস্থিত হওয়ার কথা হোয়াইট হাউসে। সেখানে তিনি শুধু গাজা নয়, ইরান নিয়েও আলোচনা করবেন।
গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহু ইচ্ছা করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, মিসরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তার দেশ নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ওই চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও কিছু ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির কথা বলা হয়েছে।
আল-জাজিরার খবর বলছে, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় গতকাল সোমবার ভোর থেকে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির দেইর এল-বালাহর আল আকসা মারটায়ার্স হাসপাতালেও আক্রমণ হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দক্ষিণের রাফায় আরও দুই সহায়তাপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অন্তত ৫৬ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪১৯ জন। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক।
লেবানন ও সিরিয়ার সঙ্গে শান্তি
এদিকে, ইসরায়েল গতকাল সোমবার জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী লেবানন ও সিরিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে আগ্রহী। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সাংবাদিকদের জানান, তার সরকার আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক করতে চায়। সার বলেন, ইসরায়েল আব্রাহাম অ্যাকর্ডের শান্তি ও স্বাভাবিকরণের চক্রের পরিসর বাড়াতে আগ্রহী। প্রসঙ্গত ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে ইসরায়েল।
সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান