ফ্রান্সের একটি কারাগার থেকে লন্ড্রির ব্যাগে লুকিয়ে পালানো এক বন্দিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনা দেশটির কারা নিরাপত্তা ও কারাগারে অতিরিক্ত ভিড় ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে লিওঁ-করবা কারাগার থেকে ২৫ কিমি দূরে একটি গ্রামের সেলার থেকে বের হওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন লন্ড্রির ব্যাগে লুকিয়ে পালানো এলিয়াজিদ এ (২০), যিনি "দ্য জোকার" অথবা "দ্য ইকোয়ালাইজার" নামে পরিচিত। এর আগে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি ওই কারাগার থেকে পালান।
জানা গেছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টা প্রহরীরা তার অনুপস্থিতি টেরই পাননি। তিনি জামাকাপড়ে ভর্তি একটি বড় প্লাস্টিকের লন্ড্রির ব্যাগে করে পালিয়েছেন, যা এক সহবন্দি একটি ট্রলিতে করে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে যায়। ওই সহবন্দিকে সেদিনই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং এখনো তার খোঁজ চলছে।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তদন্ত করছে লিওঁর পাবলিক প্রসিকিউটর, ফরাসি কারা বিভাগ এবং লিওঁ-করবা কারাগার কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় কারা বিভাগের প্রধান সেবাস্তিয়েন কাওয়েল বলেন, এলিয়াজিদ এ-কে মূলত ছোটখাটো অপরাধে কারাগারে রাখা হয়েছিল, তবে তার বিরুদ্ধে অপরাধচক্রে জড়িত থাকা এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত চলছিল। তবুও তাকে উচ্চ ঝুঁকির বন্দী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
কাওয়েল জানান, এ ধরনের পালানোর পদ্ধতি 'অত্যন্ত বিরল' এবং এটি যে সফল হয়েছে তা কারাগারের ভেতরে একাধিক গভীর ও অগ্রহণযোগ্য ব্যর্থতার ফল। তিনি আরও বলেন, এটি মূলত মানবিক ব্যর্থতা, যন্ত্রগত সমস্যা নয়, তবে কারাগারে অতিরিক্ত ভিড় প্রহরীদের কাজ কঠিন করে তোলে।
লিওঁ-করবা কারাগারটি ৬৭৮ জন বন্দির জন্য তৈরি করা হলেও বর্তমানে সেখানে ১২২০ জনের বেশি বন্দী রয়েছে। লিওঁ আইনজীবী সমিতির মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ভিড় বন্ধ করা এখন জরুরি, যাতে মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষা পায়।
সারাদেশে ফ্রান্সের কারাগারগুলোতে ৮৫,০০০ বন্দী রয়েছে, অথচ জায়গা আছে ৬৩,০০০ জনের জন্য। কাওয়েল জানান, হয়ত এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই এলিয়াজিদের অনুপস্থিতি ধরা পড়েনি, কারণ একবার কোনো সেল খালি হলেই তা দ্রুত পূরণ করা হয়।
২০২৪ সালের কাউন্সিল অব ইউরোপের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্রান্সের ১৮৬টি কারাগারের মধ্যে ভিড়ের হার সবচেয়ে বেশি, শুধু সাইপ্রাস ও রোমানিয়ার পরেই।
এ ছাড়াও অতীতে ফ্রান্সে অনেক নাটকীয় পালানোর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সাল থেকে অন্তত ২০টি হেলিকপ্টার ব্যবহৃত পালানো।
কারা ইউনিয়নগুলো বলছে, দেশে কারা প্রহরীর ঘাটতি রয়েছে কমপক্ষে ৫,০০০ জন। গত এপ্রিলে ফ্রান্সজুড়ে একযোগে একাধিক কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে দক্ষিণ ফ্রান্সের তুলোঁ কারাগারে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়।
বিভিন্ন ঘটনায় গাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং প্রহরীদের আবাসস্থল ভাঙচুর করা হয়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানায়, এটি ছিল ড্রাগ কার্টেলগুলোর পক্ষ থেকে "যুদ্ধ ঘোষণা", কারণ সরকার মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছিল।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, তারা কারাগারের সার্বিক অবস্থা উন্নত করতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সবচেয়ে বিপজ্জনক বন্দীদের জন্য উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন নতুন কারাগার নির্মাণ করা হচ্ছে, যেন জেলখানার ভেতর থেকেই সংঘবদ্ধ অপরাধের নেতৃত্ব না দেওয়া যায়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/