রোমে শেষ হলো ক্যাথলিক বিশ্বের বিশাল ফেইথ-ফেস্ট (বিশ্বাসের উৎসব)। এটি এমন ক্যাথলিক উৎসব যেখানে ক্যাথলিক সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের বিশ্বাসের গভীরতা উদযাপন করে।
উৎসবটিকে এক প্রকার ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উদযাপনও বলা যায় যেখানে ক্যাথলিক বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষাকে স্মরণ করা হয়।
অনেকটা ক্যাথলিকদের ‘উডস্টকের’ মতো এই আয়োজনে এবারের মূল আকর্ষণ ছিলেন নতুন আমেরিকান পোপ লিও চতুর্দশ।
উৎসবে অংশ নিতে সারা সপ্তাহজুড়ে লাখো তরুণ-তরুণী বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ‘চিরন্তন নগরী’ রোমে সমবেত হন। সংগীত ও প্রার্থনায় ভরপুর এই আয়োজনে কিশোর ও তরুণরা রোমের প্রাচীন রাস্তায় গান গেয়ে, বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়িয়ে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় তাঁবু টানিয়ে রাত কাটিয়েছেন।
পোপ লিও চতুর্দশকে এই উৎসবে একজন রক স্টারের মতো স্বাগত জানিয়েছেন - পুরোহিত, নান এবং সাধারণ বিশ্বাসীরা যারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি ব্যবহার করে ধর্ম প্রচার ও শিক্ষা দেন।
ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের সাথে সাথে মানবিক সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি তাদের আহ্বান জানান।
ইতিহাসের প্রথম আমেরিকান পোপ যখন সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় একটি বিশেষ প্রার্থনার পর পৌঁছান, তখন শত শত প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলেন, তাদের মোবাইল ফোন উঁচু করে তোলা হয়।
শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে অবতরণ করার পর পোপ লিও চতুর্দশ আনন্দে উচ্ছ্বসিত তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান।
এক পর্যায়ে, ভিড়ের মাঝখান থেকে ছুড়ে মারা একটি টেনিস বল হাতে ধরে তিনি হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে তা ফিরিয়ে দেন। যা দেখে অনেকে বলছেন, টেনিসের প্রতি হয়ত তার ব্যক্তিগত ভালোবাসা আছে।
রোমের টর ভারগাটা জেলায় বিশাল এক মাঠে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। পরদিন রবিবার সকালে তারা ঘুম থেকে জাগে পোপ লিও চতুর্দশের পুনরাগমনের অপেক্ষায় থাকেন, যিনি ফিরে এসে মহামিসা পরিচালনা করেন।
মাত্র ১০০ দিনেরও কম সময় আগে দায়িত্ব নেওয়া পোপ লিওর জন্য তরুণদের এই বিশাল জমায়েত ছিল তার ধর্মীয়গুরুত্বের এক বড় পরীক্ষা। তিনি আদৌ তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কতটা সংযোগ স্থাপন করতে পারেন, সেটাই ছিল দেখার বিষয়।
ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু রবিবারের মহামিসাতেই অংশ নিয়েছে ১০ লাখের বেশি তরুণ।
সুলতানা দিনা/