মাছের বদলে আলুসিদ্ধ ও ডিম রান্না করে ছেলেকে খেতে দেওয়ায় মাকে মোবাইল ছুঁড়ে মেরে আহত করে আত্মহত্যা করেছেন কিশোর নামে ছেলে (১৭)।
গত সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ভারতে মুর্শিদাবাদের নওদা থানার অন্তর্গত ঝাউবনা এলাকায়।
জানা গেছে, পিতৃহারা ওই কিশোর তার মায়ের সঙ্গে থাকত। মা ঠিকা কাজ করে কোনওক্রমে সংসার চালাতেন। সোমবার দুপুরে ডিম ভাজা আর আলু সেদ্ধ দিয়ে ভাত দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে বেঁধে যায় বাগ-বিতণ্ডা। মা প্রতিদিন কেনো ভাল খাবার রান্না করেন না এ অভিযোগ তুলে রাগের মাথায় হাতে থাকা মোবাইলফোন ছুঁড়ে মারে ছেলে। শক্ত ফোনের আঘাতে তার মায়ের চোখের নিচে কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর অনুতপ্ত হয়ে নিজেই ঘরে ঢুকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার আগে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ওই কিশোর লিখেছে, 'আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী'।
এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে নওদা থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
মৃত কিশোরের মা রমলাদেবী বলেন, 'অভাবের সংসার আমাদের। ছেলেকে দুপুরে মাছ করে দিতে পারিনি। আলু সেদ্ধ আর ডিম ভাজা দিয়ে খেতে বলেছিলাম। রাতে মাছ রান্না করে দেব বলে কথা দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেই ছেলের মাথা গরম হয়ে যায়। প্রথমে আমার মুখে মোবাইল ফোন ছুঁড়ে মারে। তারপর খাবার ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।'
রমলা দেবী আরও বলেন, 'বিকেলে আমি নিজের কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর ঘরে ঢুকে ছেলে গলায় দড়ি দেয় । পরে বিষয়টি জানাজানি হতে আমরা তাকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী শ্যামল সরকার বলেন, 'মা ও ছেলের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হত। গতকাল দুপুরে মা শুধুমাত্র আলুর তরকারি দিয়ে ভাত খেতে দেওয়ায় ছেলে মাকে মোবাইল ছুঁড়ে মারে। তারপর ভাতের থালা ফেলে আমাদের বাড়ি চলে আসে।' আমাদের বাড়িতেই ভাত খায় সে। তারপর মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে নিজের বাড়ি চলে যায়। আর সেখানে গিয়েই গলায় দড়ি দিয়েছে। ফেসবুুকে স্ট্যাটাসের বিষয়টি জানতে পারার পর আমরা তার বাড়ি গিয়ে ঘর থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু ততক্ষণে সে মারা গেছে।'
মেহেদী/