ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে যারা খেলতে পারবেন না বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রশ্নের মুখে ফিফা প্রধান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয় আমাদের দেশে অর্থবছর কেন জুলাই থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন হবিগঞ্জে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: মাহদী ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা পাতাল রেল প্রকল্পে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব কেমন ছিল দেশের প্রথম বাজেট? মির্জাপুরে গ্রামভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ জামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা বৃদ্ধ বাংলাদেশের নাগরিক বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস
Nagad desktop

বাণিজ্যযুদ্ধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত!

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫২ এএম
আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৪ এএম
বাণিজ্যযুদ্ধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত!
নরেন্দ্র মোদি, ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- দেশের কৃষক, দুগ্ধ খাত ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থে কোনো আপস নয়। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

শুল্ক কার্যকর হতে বাকি মাত্র ২০ দিন, এই অল্প সময়ের মধ্যে ভারতকে কঠিন কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে- ছাড় দেবে, নাকি নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পাল্টা পদক্ষেপে যাবে। পরিস্থিতি ক্রমেই একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতি, রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কৃষক, দুগ্ধ খাত এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থে তিনি কোনো রকম আপস করবেন না। 

দিল্লিতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে কৃষকদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত কখনো কৃষক, দুগ্ধ খাত ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ নিয়ে আপস করবে না। আমি জানি, ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য আমাকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তবু আমি পিছপা হব না।

যদিও তিনি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র বা শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তবুও তার কথায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে এবং এর ফলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা পাচ্ছেন। এই কারণ দেখিয়ে ভারতকে ‘শাস্তি’ দিচ্ছেন বলে ট্রাম্প জানান। এর আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এই শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে, অর্থাৎ ভারতের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রয়েছে মাত্র ২০ দিন।

এই শুল্কের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের শ্রমনির্ভর রপ্তানি খাত। বিশেষ করে পোশাক, গয়না ও হস্তশিল্প। রপ্তানিকারকরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক সহ্য করতে পারেন, কিন্তু ৫০ শতাংশ শুল্কে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্কের ফলে ভারতের প্রায় ৮৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক রপ্তানি হুমকির মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ। যদি এই প্রবাহে ছেদ পড়ে, তাহলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভারতের রপ্তানি, জিডিপি ও বাজারে বড় ধাক্কা আনতে পারে। ইতোমধ্যে ভারতের শেয়ারবাজারে পতন দেখা দিয়েছে, উদ্বেগ বেড়েছে শিল্প মহলে।

ভারত বলছে, এই শুল্ক ‘অন্যায়’ ও ‘অযৌক্তিক’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সংকটের মধ্যে মোদি শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন এবং ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টাও চলছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২০ দিনে দিল্লি কী কৌশল নেয়- বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ায়, না আরও রণংদেহী হয়ে ওঠে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব দাম্মু রবি বলেছেন, ‘এই শুল্ক বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটা সাময়িক সমস্যা। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ব একসঙ্গে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করবে।’ তিনি আরও বলেন, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এর মধ্যেই জানা গেছে, গত কয়েক মাসে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা বাণিজ্য আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে। মূলত কৃষি ও দুগ্ধ খাত ভারতের মার্কেট খুলে দেওয়ার বিষয়ে এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থেকেই গেছে। এখন আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আবার ভারতে আসছে আলোচনার জন্য। এই আলোচনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করতে পারে।

এই সংকটের মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘ভারতের জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে বড়। যদি কেউ আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে শাস্তি দিতে চায়, তবে তারা ভারতের শক্তি সম্পর্কে কিছুই জানে না।’ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ বলে অভিহিত করেছেন। মোদি সরকারকেও কংগ্রেস সতর্ক করে বলেছে- জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হলে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই ঘোষণার পর পরই ভারতের শেয়ারবাজার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পড়ে গিয়ে তিন মাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। রপ্তানিমুখী শিল্পগোষ্ঠীগুলোও এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন। পোশাক রপ্তানিকারক সংগঠনের চেয়ারম্যান সুধীর সেকরি বলেছেন, ‘এত বড় শুল্ক হঠাৎ করে চাপিয়ে দেওয়া হলে আমাদের খাত টিকতে পারবে না। সরকার থেকে আমরা ত্রাণ প্যাকেজ বা আর্থিক সহায়তা চাইছি।’ ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক বাণিজ্যপ্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই সংকটময় মুহূর্তে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথমবার তিনি বেইজিং সফর করবেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার একটি অংশ। এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, তিনি ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে এই শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করবেন এবং এ বিষয়ে মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে তার ফোনালাপের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৯ সালেও একবার ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্কসংক্রান্ত উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) সুবিধা প্রত্যাহার করে। সেই সময় ভারতও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল ২৮টি মার্কিন পণ্যের ওপর। এবারও কি ভারত সেই পথে হাঁটবে? এখনো সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা না এলেও সরকারের ভেতরে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে ভারতের সামনে এখন দুটি প্রধান পথ খোলা রয়েছে- একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানি কিছুটা সীমিত করা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কমে। অন্যদিকে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে যাওয়া। এই মুহূর্তে সময় খুবই অল্প, মাত্র ২০ দিন। এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দিল্লিকে।

এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও এক অগ্নিপরীক্ষা। মোদি সরকারের কৌশল এখন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। তাই গোটা বিশ্বের নজর এখন ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই। 
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সম্পন্ন
প্রতীকী ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এ হামলায় ইরানজুড়ে দেশটির সামরিক নজরদারি সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর তদারককারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন মেরিন কোর, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। সূত্র: এএফপি 

নাঈম/

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট  বাড়ার আশঙ্কা, জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই গভীর সঙ্কটে রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এই সঙ্কটের প্রভাব শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বুধবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (এক্সে) দেয়া এক বার্তায় গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য আরো গভীর সঙ্কটের দিকে টেনে নেয়া হচ্ছে এবং এর পরিণতি পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগজনক।’

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে অঞ্চলটিতে নতুন করে হামলা, পাল্টা হামলা এবং সহিংসতা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকৃত যুদ্ধবিরতি বলা যায় না; বরং এটি “কম মাত্রার যুদ্ধ” বা লেসার-ফায়ার অবস্থার মতো।

জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, “আমরা যেন এই ঝুঁকিকে ছোট করে না দেখি। সীমিত সংঘাত খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।” সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংঘাতের সামরিক সমাধান নেই; টেকসই শান্তির জন্য কূটনৈতিক পথই একমাত্র কার্যকর উপায়।

গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, “সব পক্ষকে অবশ্যই একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আর কোনো হামলা নয়, আর কোনো অজুহাত নয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গুতেরেসের সর্বশেষ এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল জাজিরা

আমান/

মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয়

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
মার্কিন হামলায় ইরানের পানি সরবরাহে বিপর্যয়
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির পরে যুক্তরাষ্ট্র জাস্ক, সিরিক এবং হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। হামলায় ৫০০ ও ২০০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা স্থানীয় মানুষের পানির প্রধান উৎস ছিল।

স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি বলেন, নিরাপদ পানির অভাবের পানিবাহিত রোগ, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ঝুঁকি এড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। তবে পানি সরবরাহ স্থাপনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই উভয় পক্ষ নতুন হামলা ও পাল্টা হুমকির অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি 

খাদিজা রুমি/

ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ইরানের হামলায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, কুয়েত ইরানের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ও সমস্ত হুমকি দূর হলে দেশের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেবে এবং স্বাভাবিক ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত চুক্তি এবং পরিচালন পদ্ধতি অনুসারে ফ্লাইটগুলোকে অন্য পথে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়াও যাত্রী এবং বিমান সংস্থাগুলোকে ডিজিসিএ কর্তৃক জারি করা সরকারি তথ্য অনুসরণ করতে এবং বিমান ভ্রমণ সম্পর্কিত যেকোনো নির্দেশনা ও নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলা এবং এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এই অস্থায়ী বন্ধের সিদ্ধান্ত এসেছে। যা এই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান চলাচলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ

থিও/

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ১৮টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের দাবি, সেখানে অবস্থানরত এবং হামলার জন্য প্রস্তুত থাকা মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি সাইট এবং কুয়েতের দুটি বিমান ঘাঁটিও এই হামলার শিকার হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত এক ডজন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'চুক্তির সমঝোতায় আসতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে, এখন তাদের এর মূল্য চুকাতে হবে।'

মার্কিন হামলার পরপরই ইরান কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী সব ধরনের আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে। এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে তাৎক্ষণিকভাবে ২ ডলারেরও বেশি বেড়েছে।

কুয়েত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং জর্ডান ও বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/অমিয়/