ডোনান্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিমান কেনার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির আওতায় ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জেনারেল ডাইনামিকস ল্যান্ড সিস্টেমসের তৈরি স্ট্রাইকার কমব্যাট ভেহিকল, রেথিয়ন ও লকহিড মার্টিনের তৈরি জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোয়িং P8I রিকনেসান্স বিমান কেনার কথা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্তের জবাবে এটি দেশটির প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
সংশ্লিষ্ট তিন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানায়, ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শিগগির ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে কিছু ক্রয় চুক্তি ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর বাতিল হয়েছে।
এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, শুল্ক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকনির্দেশনা পরিষ্কার হলে চুক্তিটি আবার কার্যকর হতে পারে, তবে তা ‘প্রত্যাশিত সময়ে নয়’। আনুষ্ঠানিকভাবে কেনা বন্ধের লিখিত নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি, তাই চাইলে দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব। কিন্তু এ মুহূর্তে কোনো অগ্রগতি নেই বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের তথ্যমতে, কেনার আলোচনা শুল্কের কারণে থেমে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে এসব কেনা ও উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন।
এ ছাড়া, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি বোয়িং পি-৮১ নজরদারি বিমান ও সহায়ক সরঞ্জাম কিনতে ৩৭০ কোটি টাকার চুক্তি ঘোষণারও পরিকল্পনা করেছিলেন রাজনাথ সিং। যেটিও এখন বাতিল সফরের সঙ্গে আটকে গেছে।
এদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ভারত অভিযোগ করছে, তাদের অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অথচ ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের স্বার্থে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ফ্রান্স, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশ থেকে অস্ত্র কেনার দিকে ঝুঁকেছে।
সুলতানা দিনা/