মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ গত ২০০ বছরে ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। ১৮০০ সাল থেকে তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখেছেন গবেষকরা। তারা দেখেছেন, সংযোগ কমে যাওয়ার এ সময়টিতে বই থেকে নদী, শেওলা ও পুষ্পের মতো শব্দগুলো উধাও হয়ে যেতে শুরু করেছে।
গবেষণায় কম্পিউটার মডেলিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সুদূরপ্রসারী নীতি হাতে না নিলে এবং সামাজিক পরিবর্তন না এলে প্রকৃতির সঙ্গে এই সংযোগ আরও কমতে শুরু করবে। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টিকে পরিবেশ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।
গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ডারবির অধ্যাপক মাইলস রিচার্ডসন। তিনি গত ২২০ বছরের নগরায়ণের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করেছেন মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝার জন্য। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাওয়া ও শিশুদের নিয়ে বাবা-মায়েরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাচ্ছেন কি না, সে বিষয়গুলোও আমলে নিয়েছেন।
গবেষণাটি আর্থ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত শব্দগুলো বই থেকে কমতে থাকার যে বিষয়টি দেখা গেছে, তা সবচেয়ে বেশি হয়েছে ১৯৯০ সালে। সে সময় এ ধরনের ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ শব্দ বই থেকে উধাও হয়ে গেছে।
রিচার্ডসন বলেছেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষ ও প্রকৃতির ভালো– দুটোই করে। আমরা যদি প্রকৃতির সঙ্গে সমাজের সম্পর্কের বিষয়টিতে পরিবর্তন আনতে যাই, তাহলে আমাদের রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান