গাজার মেডিকেল সূত্রগুলো জানিয়েছেন, শুক্রবার (২২ আগস্ট) ফজরের পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা শহরে নিহতের সংখ্যা ৩৬, যেখানে ইসরায়েল একটি বড় আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে শহরে হামলা তীব্র করেছে।
ইসরায়েলের একটি বিমান হামলা গাজা শহরের শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি স্কুলে আঘাত হানে, যেখানে সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এবং সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা কর্তৃক যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার (ড্রোন) শেখ রাদওয়ানের একটি ভবনের উপর ভেসে ঘুরছে, যখন প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তা দেখছেন। পরে ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরক ফেলে এবং ভিডিওতে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
আল জাজিরা জানিয়েছেন, গাজা শহরে তীব্র আক্রমণ চালানো হলেও, গাজা উপত্যকার অন্যান্য এলাকায়ও হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজা নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণের খান ইউনিস শহরে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন মহিলা ও চার শিশু নিহত হয়েছেন।
আল-শিফা হাসপাতালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরের গাজা জাবালিয়া আল-বালাদ এলাকায় ইসরায়েলি সেনা হামলায় আরও একজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার গাজা জুড়ে ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন সহায়তা চাইতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার নেটজারিম করিডোরে এক সহায়তা প্রার্থী নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন, উত্তর গাজার আল-আউদা হাসপাতালের মেডিকেল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৭ মে থেকে অন্তত ২,০৩৬ জন সাহায্যপ্রার্থী নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সতর্ক করেছিলেন যে, গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর ‘গাজা সিটি’ ধ্বংস করা হবে যদি হামাস ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ করার শর্তে রাজি না হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক পোস্টে লিখেছেন, “গাজায় হামাসের হত্যাকারী ও গণধর্ষকের মাথার উপর শীঘ্রই নরকের দ্বার উন্মোচিত হবে—যতক্ষণ না তারা যুদ্ধ শেষ করার শর্তে রাজি হচ্ছে।” তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ইসরায়েলকে রক্ষার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত বন্দির মুক্তি এবং হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। হামাস বন্দি মুক্তির প্রস্তাবে রাজি হলেও, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
কাতারি ও মিসরীয় মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সর্বশেষ স্থগিত অস্ত্রপ্রস্তাবের প্রেক্ষিতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) জানিয়েছেন যে, তিনি কর্মকর্তাদের “বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধ শেষ করার জন্য অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে” নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন, তিনি সেনাবাহিনীকে গাজা শহর দখলের জন্য একটি বড় অভিযান অনুমোদন দেবেন, যা কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই অভিযান গাজায় হামাসের হাতে জীবিত থাকা প্রায় ২০ জন বন্দির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। নেতানিয়াহু মনে করছেন, এই অভিযানই বন্দিদের মুক্তি এবং হামাস ধ্বংসের মূল লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/