সুপার টাইফুন নানদো (আন্তর্জাতিক নাম রাগাসা) সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রশান্ত মহাসাগরে ফিলিপাইনের বাবুইয়ান দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে। তারপর এটি পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরের দিকে এগিয়ে এসেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এটি পরবর্তীতে চীনের গুয়াংদং প্রদেশ ও হংকংয়ে তান্ডব চালাবে।
সুপার টাইফুনকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি ধরা হয়। এটি মূলত ক্যাটাগরি–৫ হারিকেনের সমতুল্য।
ফিলিপাইনের বায়ুমণ্ডলীয়, ভূ-ভৌতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিষেবা প্রশাসন (PAGASA) জানিয়েছে, শক্তিশালী সুপার টাইফুনটি মারাত্মক আকার ধারণ করে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফিলিপাইন এলাকা (PAR) থেকে বেরিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ সংস্থাগুলোর শেয়ার করা ভিডিও ক্লিপগুলোতে দেখা গেছে, ফিলিপাইনের উত্তর কাগায়ান প্রদেশে শক্তিশালী টাইফুনটি প্রচণ্ড বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিতে আছড়ে পড়েছে, যার ফলে তীব্র ঢেউ উঠেছে এবং গাছপালা প্রচণ্ডভাবে দুলছে। বেঙ্গুয়েটের তুবাতে ভূমিধসের পর উদ্ধারকর্মীরা রাস্তা পরিষ্কারের কাজে অংশ নিচ্ছেন। মেট্রো ম্যানিলার বেশিরভাগ এলাকার সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার সতর্কীকরণে, PAGASA জানিয়েছে, নানদোর কেন্দ্রস্থল ছিল কাগায়ানের ক্যালায়ান থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, কেন্দ্রের কাছে সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বাতাসের গতিবেগ। ২৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টিকে কর্তৃপক্ষ ‘বিধ্বংসী’ বলে আখ্যা দিয়ে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের দুর্গম বাতানেস ও বাবুয়ান দ্বীপপুঞ্জ। প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই অঞ্চলে বাস করেন।
ফিলিপাইন থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দূরে তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন এলাকায়ও প্রায় ৩০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও টাইফুনটি সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত হানবে না, তবে প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চল, ট্রেইল ও ফেরি সার্ভিস স্থগিত রাখা হয়েছে।
এদিকে, চীনের গুয়াংদং প্রদেশে বড় আকারের দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার থেকেই ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। শেনচেন শহর থেকে অন্তত চার লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, হংকংয়েও মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। এরই মধ্যে ক্যাথে প্যাসিফিক ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, হংকং এয়ারলাইন্সও সব ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
সুলতানা দিনা/