উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশের “পারমাণু ঢাল ও তরবারি” আরও শক্তিশালী করতে। তিনি বলেছেন, কেবল একটি “পারমাণবিক পাল্টা ব্যবস্থা”ই তার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
গতকাল শুক্রবার পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হং সুং-মু, যাকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কারিগর হিসেবে ধরা হয়।
কিম ঘোষণা দেন, পারমাণবিক উপকরণ ও অস্ত্র উৎপাদন হলো “অত্যাবশ্যক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার”, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) কিমকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, “শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা—অর্থাৎ পারমাণবিক শক্তিকে মেরুদণ্ড করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার যুক্তি—এটাই উত্তর কেরিয়ার অবিচল অবস্থান।”
কেসিএনএ বলেছে, “কমরেড কিম জং উন বলেছেন, আমাদের অবশ্যই ক্রমাগতভাবে সেই পারমাণবিক ঢাল ও তরবারিকে শাণিত ও নবায়ন করতে হবে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্বার্থ এবং উন্নয়নের অধিকার নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করতে পারে।”
কিমের এই বৈঠকটি দক্ষিণ কোরিয়ার এক ঘোষণার কয়েক দিন পরেই হলো। সিউল জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ২ হাজার কেজি (দুই টন) উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ঐক্যবিষয়ক মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং বৃহস্পতিবার বলেন, মাত্র ১০ থেকে ১২ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট। ইয়োনহাপের বরাতে তিনি যোগ করেন, “এ মুহূর্তেও উত্তর কোরিয়ার চারটি স্থানে ইউরেনিয়াম সেন্ট্রিফিউজ চলছে, সম্ভবত পারমাণবিক উপকরণ জমা করছে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আর শুধু নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে রাজি করানো সম্ভব নয়। তবে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হলে তা নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টায় একটি “অগ্রগতি” বয়ে আনতে পারে।
“আলোচনাগুলো যত দ্রুত সম্ভব শুরু হওয়া বাঞ্ছনীয় হবে,” তিনি বলেন।
সম্প্রতি কিম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে জোর না করে তবে সংলাপ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।
কেসিএনএ অনুযায়ী কিম বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে, আমার এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে সুন্দর স্মৃতি রয়েছে।” ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে তিনি তিনবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের নিরস্ত্রীকরণের অবাস্তব চিন্তা বাদ দেয় এবং বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সত্যিকারের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসতে আমাদের কোনো কারণ নেই।”
কিমের বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, “বিশ্ব ইতোমধ্যেই ভালোভাবেই জানে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নিরস্ত্র করার পর কী করে থাকে।”
তিনি স্পষ্ট করে দেন, “আমরা কখনোই আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়ব না।” সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/