মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র হতে বাধ্য করা হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রই দ্রুত ও প্রয়োজনে সহিংসভাবে তাদের নিরস্ত্র করবে। গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার জবাবেই এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা নিরস্ত্র না হয়, আমরা নিরস্ত্র করব এবং সেটা হবে দ্রুত এবং হয়তো সহিংস উপায়ে। তবে তারা নিরস্ত্র হবেই—বোঝাতে পারছি তো? এটি একটি যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যেই ঘটবে।”
এই সপ্তাহে গাজায় ট্রাম্প-প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে—হামাসকে কীভাবে নিরস্ত্র করা হবে এবং শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপে তারা গাজা থেকে সরে দাঁড়াবে কি না। ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও হামাসকে সীমিত ভূমিকা রাখতে দেওয়া হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক ও হামাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার ট্রাম্প স্বীকার করেন, অস্থায়ীভাবে হামাস নিরাপত্তা রক্ষায় “সীমিত ভূমিকা” পালন করবে। যদিও তার ২০ দফা শান্তিচুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, হামাসকে নিরস্ত্র হয়ে গাজা দখলের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে।
একইদিনে হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায়, আটজন চোখ বাঁধা ও হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। দলটি তাদের “সহযোগী ও অপরাধী” হিসেবে অভিহিত করে। এএফপি জানায়, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় অপরাধী গোষ্ঠী ও গোষ্ঠীগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালিয়েছে হামাস।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, গাজার পুনর্গঠন হবে ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজ। তাই বাস্তবে ভূমির পরিস্থিতি সামাল দিতে হামাসকে অস্থায়ী ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তারা সমস্যাগুলো থামাতে চায় এবং এ ব্যাপারে খোলামেলা ছিল। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের অনুমোদন দিয়েছি।”
মিশরে অবস্থানকালে ট্রাম্প জানান, শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ধাপগুলোর অনেকটাই পরস্পরের সঙ্গে মিশে আছে এবং সময় নিয়ে বাস্তবায়িত হবে। তার ভাষায়, গাজায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। জায়গাটা ব্যাপকভাবে গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগের সপ্তাহে মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালিল আল-হায়ার নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। কুশনার ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চয়তা দেন, হামাস যদি শান্তিচুক্তি সই করে তবে ট্রাম্প ইসরায়েলকে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা থেকে বিরত রাখবেন।
৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে উইটকফ হামাসকে বলেন, জিম্মিরা “আপনাদের জন্য সম্পদের চেয়ে বোঝা বেশি” এবং এখনই বিনিময়ের সময়। এ সময় তিনি বার্তা দেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি হলো, আপনাদের ন্যায্যভাবে দেখা হবে এবং তার শান্তিচুক্তির ২০ দফা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios জানায়, বৈঠকটি ছিল চুক্তি বাস্তবায়নের মূল অগ্রগতি। মিসর, তুরস্ক ও কাতারের গুপ্তচর প্রধানরা হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনা শেষে ট্রাম্পের দূতদের বলেন: “আমাদের বৈঠকের ভিত্তিতে একটি চুক্তি হয়েছে।” সূত্র: দি গার্ডিয়ান
মাহফুজ/