চীনের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক আর্কটিক মহাসাগরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক অভিযান চমকে দিয়েছেন গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীমহলকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকরণ আর পরিবেশগত ডিএনএ বিশ্লেষণ ব্যবহার করে তারা গভীর সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে এমন সব তথ্য পেয়েছেন, যা জীববিজ্ঞানীদের মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অভিযান চলে টানা ৮৩ দিন। অভিযান শেষ হয় চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর। চীনের চারটি গবেষণা জাহাজ-আইসব্রেকার সুয়েলং-২, চিতি, শেনহাই-১, এবং থানসুও-৩ একসঙ্গে কাজ করেছে এ অভিযানে।
এ অভিযানে বিজ্ঞানীরা আর্কটিক মহাসাগরের তলদেশে ভূপ্রাকৃতিক এবং জীববৈচিত্রের দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে আরও গভীর ধারণা পেয়েছেন। এতে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমুদ্রের গভীরে ডুব দিতে সক্ষম মনুষ্যবাহী সাবমার্সিবল চিয়াওলং-এর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওগুলোতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় প্রাণীর ঘনত্ব, আকার ও বৈচিত্র্যের পার্থক্য সহজেই ধরা পড়েছে।
এ ছাড়া এই গবেষকেরা জানান, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের এম্পেরর সিমাউন্ট চেইন অঞ্চলে পাওয়া ৬৪টি বেন্থিক জীবগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশের সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ম্যাগেলান সিমাউন্টস অঞ্চলের জীবগোষ্ঠীর মিল রয়েছে। এর মানে, গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা হয়তো বিশাল সমুদ্রজুড়েও কোনও না কোনোভাবে যুক্ত।
এছাড়া, নির্ভুলভাবে তথ্য যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা পরিবেশগত ডিএনএ স্যাম্পল বিশ্লেষণও করেছেন।
সমুদ্রের প্রাণীরা সাধারণত পানিতে তাদের কোষ বা ত্বকের অংশ ফেলে যায়। তাই সামান্য কয়েক ফোঁটা পানিতেও সেই জিনগত উপাদান থাকে। এটাই হলো পরিবেশগত ডিএনএ বা ইডিএনএ।
এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এমন সব প্রজাতি শনাক্ত করতে পারেন, যারা অনেক আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। চিয়াওলং সাবমার্সিবলে রয়েছে পানিশোধন ব্যবস্থা। এতে ভিডিও করার সময়ই ই-ডিএনএ সংগ্রহ করে। পরে ল্যাবে এগুলো পরীক্ষা করা হয়, ঠিক যেমনটা আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা হয়।’
এবারের অভিযান পৌঁছেছিল উত্তর অক্ষাংশ ৭৭.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত—যা আগে কখনও হয়নি। ফলে আর্কটিকের উচ্চ অক্ষাংশের যে জায়গাগুলোর তথ্য ছিল না, সেই শূন্যতাও এবার পূরণ হয়েছে। এতে সমুদ্রের পরিবেশ পূর্বাভাস আরও নিখুঁত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযানে চিয়াওলং সাবমার্সিবল বিপুল পরিমাণে শিলা, তলানির নমুনা, সামুদ্রিক পানি এবং ১৮৩টি জীববৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সি অ্যানিমোন, অ্যাসিডিয়ান, অ্যামফিপড, সি স্পাইডার, এবং ব্রিটল স্টারসহ ১২টি প্রধান শ্রেণির প্রাণী।
সুলতানা দিনা/