ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
Nagad desktop

ডিএনএ গবেষণা নেপোলিয়নের গ্র্যান্ড আর্মি কাবু হয়েছিল আরও দুই ভাইরাসে

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১০ এএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৭ পিএম
নেপোলিয়নের গ্র্যান্ড আর্মি কাবু হয়েছিল আরও দুই ভাইরাসে
ছবি: সংগৃহীত

২১৩ বছর আগের কথা। ১৮১২ সালের জুন মাসে পাঁচ লাখের বেশি সেনা নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছিলেন ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। সৈন্য নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু রুশ সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ না করেই তাকে ফিরতে হয়েছিল দেশে। ফেরার অন্যতম কারণ ছিল সৈন্যদের অসুস্থতা। এতদিন পর্যন্ত জানা গিয়েছিল, অসুস্থতার নেপথ্যে ছিল ‘টাইফাস’ মহামারির সংক্রমণ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, শুধু টাইফাসই নয়, আরও ‘দুটি ভাইরাস’ কাবু করেছিল ফরাসি সম্রাটের ‘গ্র্যান্ড আর্মিকে’।

নেপোলিয়নের ‘গ্র্যান্ড আর্মিকে’ মোকাবিলার জন্য এক কৌশলী চাল চালেন রুশ সেন্যরা। তারা মস্কোকে পরিত্যক্ত শহর বানিয়ে সেখান থেকে পিছিয়ে যেতে থাকেন। পিছিয়ে যেতে যেতে পথে নিজেদের সব গ্রাম এবং চাষের খেত পুড়িয়ে দেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের এই কৌশলী চালে, নেপোলিয়নের বাহিনী যখন মস্কোয় পৌঁছায়, তখন তাদের খাবারের ব্যাপক অভাব দেখা দেয়। সঙ্গে প্রবল শীতও কাবু করতে থাকে তাদের। এরই মধ্যে নানা রোগের সংক্রমণেও বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে রুশ অভিযানের সময়ে নেপোলিয়নের প্রায় তিন লাখ সৈন্য ক্ষুধা, শীত এবং রোগের কারণে মারা যায়।

নেপোলিয়নের সেনারা কী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তা নিয়ে গবেষণাও চলে। এত দিন পর্যন্ত ধরে নেওয়া হতো, টাইফাস মহামারির কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তারা। রাশিয়া অভিযান থেকে পিছু হটার সময়ে ইউরোপের লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে ‘গ্র্যান্ড আর্মির’ মৃত সৈন্যদের কবর দেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে ওই গণকবরটি আবিষ্কৃত হয়। পরে ২০০৬ সালের এক গবেষণায় ২১৩ বছরের পুরোনো ওই টাইফাস-বৃত্তান্ত সম্পর্কে প্রথম জানা যায়। সৈন্যদের কিছু কঙ্কালের দাঁত বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। নমুনাগুলো থেকে জানা যায়, সৈন্যদের ‘রিকেটসিয়া প্রোয়াজেকি’ নামে এক ব্যাকটেরিয়ার (যা থেকে টাইফাস রোগ হয়) সংক্রমণ হয়েছিল।

২০০৬ সালের গবেষণায় প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে ওই সময়ে ‘রিকেটসিয়া প্রোয়াজেকি’ ব্যাকটেরিয়াকে চিহ্নিত করা গেলেও, গবেষণা আর বেশি দূর এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে গবেষণার ধরনে বদল আসে। সম্প্রতি গবেষকরা ‘হাই-থ্রুপুট সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি পদ্ধতিতে মৃত সৈন্যদের কঙ্কাল থেকে পাওয়া দাঁতের নমুনা পরীক্ষা করেন। এই পদ্ধতিতে এক সঙ্গে লক্ষাধিক ডিএনএর নমুনা বিশ্লেষণ করা যায়। ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ডিএনএর নমুনা বিশ্লেষণ করা যায় এই পদ্ধতিতে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, আরও অন্তত দুটি ভাইরাস নেপোলিয়নের সৈন্যদের কাবু করেছিল। এর একটি হচ্ছে ‘সালমোনেলা এনটেরিকা’। অপরটি হচ্ছে ‘বোরেলিয়া রেকারেনটিস’। এসব ভাইরাসের ফলে ‘প্যারাটাইফয়েড’ এবং ‘রিল্যাপসিং ফিভার’ (বার বার জ্বর ফিরে আসা) বাসা বাঁধে সৈন্যদের শরীরে। তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে নেপোলিয়ন ফিরে আসতে বাধ্য হন। সম্প্রতি জীববিদ্যাসংক্রান্ত সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজিতে’ গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয়েছে। 

নতুন গবেষণায় পাওয়া এই দুই ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি আরও অন্য জীবাণুর সংক্রমণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ নতুন গবেষণাটি করা হয়েছে মাত্র ১৩টি কঙ্কালের নমুনা নিয়ে। সে ক্ষেত্রে অন্য কঙ্কালগুলোর দাঁতের নমুনা থেকে অন্য কোনো সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া যেতে পারে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, ১৩টি নমুনার মধ্যে টাইফাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

গবেষকদলের নেতৃত্বে রয়েছেন এস্তোনিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি অব তারতু’র গবেষক রেমি বারবেরি। আগে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউটের’ গবেষক ছিলেন। তার ভাষ্য, ‘এত দিন আমরা ভাবতাম যে, নেপোলিয়নের সৈন্যবাহিনীকে ধ্বংস করেছিল শুধু একটিই সংক্রামক রোগ- টাইফাস। তবে নতুন গবেষণায় একেবারে অপ্রত্যাশিত কিছু পাওয়া গেছে। সৈন্যবাহিনী ধ্বংসের নেপথ্যে আরও সংক্রামক রোগের যোগ থাকার সম্ভাবনার দিক খুলে দিয়েছে এই গবেষণা।’

গবেষকদলের অন্যতম সদস্য তথা ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউটের’ মাইক্রোবিয়াল প্যালিওজেনোমিক্স শাখার প্রধান নিকোলাস রাসকোভান বলেছেন, ‘নেপোলিয়নের সৈন্যদের শরীরে যে বেশ কয়েকটি সংক্রামক রোগ ছিল, তা আমাদের এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট।’

তবে নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর ওপর এই রোগগুলোর প্রভাব কতটা ছিল, তা জানতে গেলে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন রাসকোভান। কারণ, এই গবেষণায় মাত্র ১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। বস্তুত, ‘প্যারাটাইফয়েড’ বা ‘রিল্যাপসিং ফিভার’ বর্তমানে খুব বেশি দেখা যায় না। এগুলো এখন আর ততটা মারাত্মকও নয়। 

১৮১২ সালে তার সৈন্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ার জেরে ‘গ্র্যান্ড আর্মির’ সিংহভাগই ধ্বংস হয়ে যায়। নেপোলিয়ন যখন দেশে ফেরেন তখন তার সঙ্গে অর্ধেকের বেশি সৈন্য ফিরতে পারেননি। যারা ফিরেছিলেন তারাও দুর্বল হয়ে পড়েন। এর প্রভাব পড়ে ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে। ওই যুদ্ধে পতন হয় নেপোলিয়নের।

সূত্র: সিএনএন

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডের পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন লাভকেশ বাজাজ এবং তার স্ত্রী।

বুধবার সকালে আগুন লাগে মালব্য নগরের ঝাঁ চকচকে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। এ ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের।

চিকিৎসার জন্য আসা দেশ-বিদেশের অনেকেই উঠতেন হোটেলটিতে। ধারণা করা হচ্ছে নিচ তলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে সূত্রপাত আগুনের।

হোটেলটি থেকে প্রায় ৪০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ঠিক না থাকাসহ অনুমোদন ছাড়া ঘর তৈরি করা।

আমান/

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন গিয়ে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন।

কিম জং উন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদানের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। এই নতুন প্ল্যান্টটি দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কিম এই পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন।

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৯০টি ওয়ারহেড তৈরির মতো পারমাণবিক উপাদান রয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় একাধিক পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সক্রিয়তার কথা নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিমকে উন্নত প্রযুক্তির গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের সারির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন'-এর সিনিয়র গবেষক হং মিন জানান, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা এখন আর গবেষণা পর্যায়ে নেই, বরং সরাসরি ‘গণহারে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন’ শুরু করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

অন্যদিকে, 'নিউক্লিয়ার ওয়েপনস ব্যান মনিটর'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সুত্র: সিএনএন

আজহার/

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান এ হামলাকে ‘অপরাধমূলক ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি বলেন, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-আতওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আহতদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল স্থগিত করেছে ও আগত ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। কারণ টার্মিনাল ওয়ান ইরানি হামলার শিকার হয়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত। 

দেশটি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর থেকেই তারা ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

তেহরান অভিযোগ করে বলেছে, কুয়েত তাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালাতে সহায়তা করছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/