নেদারল্যান্ডসের গত ২৯ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ৩৮ বছর বয়সী মধ্যপন্থী নেতা রব জেটেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এএফপির খবর।
শুক্রবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দেশটির নির্বাচন কমিশন এই ফলাফল ঘোষণা করে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ও প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জেটেন।
নির্বাচন কাউন্সিল জানায়, ইউরোপে অতি-ডানপন্থার উত্থানের সূচক হিসেবে দেখা এই নির্বাচনে জেটেন অ্যান্টি-ইসলাম নেতা গির্ট উইলডার্সের চেয়ে মাত্র ২৯ হাজার ৬৬৮ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন।
জেটেন গত শুক্রবার এএফপিকে বলেছিলেন, 'দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে প্রচারণা চালালে জেতা সম্ভব। ইউরোপ ও বিশ্ববাসীকে আমরা তা করে দেখাতে পেরেছি।'
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ নেদারল্যান্ডস। অবশ্য দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার আগে জেটেনকে আগে জোট সরকার গঠন করতে হবে। এর জন্য কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
দেশটির ১৫০ সদস্যবিশিষ্ট সংসদে কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই ডাচ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আপস ও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কাউন্সিল জানায়, জেটেনের মধ্যপন্থী দল ডেমোক্র্যাট ৬৬ (ডি৬৬) পেয়েছে ২৬টি আসন। ডাচ ইতিহাসে নির্বাচনে জয়ীর কোনো দলের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে কম।
এই নির্বাচনে মোট ১৫টি দল সংসদে আসন পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রাণীর অধিকার রক্ষায় প্রচারণা চালানো এবং ৫০ বছর বেশি বয়সী নাগরিকদের স্বার্থ প্রতিনিধিত্বকারী দল।
উইলডার্সের নেতৃত্বাধীন অতি-ডানপন্থী পার্টি ফর ফ্রিডম (পিভিভি) দলও পেয়েছে ২৬টি আসন। ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা জিতেছিল ৩৭টি আসনে।
ডিলান ইয়েসিলগজের নেতৃত্বাধীন পিপলস পার্টি ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (ভিভিডি) পেয়েছে ২২টি আসন। নির্বাচনী চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতি-ডানপন্থী দলগুলো এখনো দেশটিকে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
এদিকে, জেটেনের পছন্দ হলো চারদলীয় একটি জোট—যেখানে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমুখী দলগুলো একত্র হবে। তিনি চান মধ্য-ডানপন্থী সিডিএ (১৮ আসন), ডানপন্থী উদারপন্থী ভিডিভি (২২ আসন) এবং বামপন্থী গ্রিন/লেবার (২০ আসন) পার্টি তাঁর সঙ্গে যুক্ত হোক। এতে তার মোট আসন দাঁড়াবে ৮৬, যা সংসদে তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে।
তবে ভিডিভি নেতা দিলান ইয়েসিলগোজ ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি গ্রিন/লেবারের সঙ্গে কোনো জোটে যাবেন না। তার পছন্দ হলো ডানমুখী জোট, যাতে থাকবে সিডিএ, জে-এ২১ ও জেটেনের ডি৬৬। কিন্তু এ জোটে আসন হবে ঠিক ৭৫টি, যা ন্যূনতম সীমা এবং এটি ভবিষ্যতে সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
জেটেন যদিও বলেছেন, সংখ্যালঘু সরকার তার পছন্দ নয়, তবে সেটিও এখন একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আছে।
এদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে উইল্ডার্স জেটেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছেন। তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
কমিশনের চেয়ারম্যান উইম কুইকেন জানান, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ভরযোগ্য। নেদারল্যান্ডসে ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণার একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়া বিদ্যমান।
উইল্ডার্স প্রস্তাব দিয়েছেন, তিনি জোটে যোগ দিতে আগ্রহী। তবে নির্বাচনের আগে মূলধারার সব দল তার সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, উইল্ডার্সের দলই গত বছর সরকারের জোট থেকে সরে এসে এই আগাম নির্বাচন ডেকে আনে। কারণ, তিনি দাবি করেছিলেন, সরকার ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অভিবাসননীতি’ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখাচ্ছে।
সুলতানা দিনা/