মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা মালয়েশিয়া–থাইল্যান্ড উপকূলে ডুবে গিয়ে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে চলছে জোর তল্লাশি অভিযান।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পুলিশ ও সামুদ্রিক কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রওনা হয়েছিল। তিন দিন পর থাইল্যান্ডের কো তারুতো দ্বীপের কাছে, মালয়েশিয়ার লাংকাবি দ্বীপের উত্তরে সেটি ডুবে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের সবাই মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রায় ৩০০ জনের একটি বড় দলের অংশ ছিলেন, যারা অন্তত দুটি নৌকায় বিভক্ত হয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।
মালয়েশিয়ার লাংকাবি উপকূল এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (এমএমইএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান আরও সাত দিন চলবে বলে জানিয়েছেন কেদাহ ও পেরলিস প্রদেশের এমএমইএ পরিচালক রমলি মুস্তাফা।
মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে শতাধিক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়াগামী একটি বড় নৌকায় উঠেছিলেন। পরে তাদের দুই দলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে একটি নৌকা, যাতে ৭০ জন ছিলেন, তা ডুবে যায়। অন্য নৌকায় থাকা প্রায় ২৩০ জনের অবস্থান এখনো অজানা।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত মায়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫ হাজার ১০০ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন।
বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গারা নৌকায় চেপে মায়ানমার বা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে মুসলিমপ্রধান মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করে আসছেন। তারা বলছেন, নিজেদের দেশে নির্যাতন আর শিবিরের দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির আশাতেই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামছেন।
অন্যদিকে বৌদ্ধপ্রধান মায়ানমার সরকার এখনো দাবি করছে— রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা দেশটির নাগরিক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। সূত্র: আল জাজিরা
মেহেদী/